পাতা:বিশ্বকোষ সপ্তদশ খণ্ড.djvu/২১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


লাদখ [ ২১২ ] *...* লাদর্থ মঙ্গুষ্যের বাস নাই। এখানকার অধিতাকা ও উপত্যকামাত্রই गभूमशृ* श्रेष्ठ २००० ७ ११००० फिरौद्र भशादसैंौं ७दः তন্মধ্যবর্তী অনেকগুলি পৰ্ব্বতশৃঙ্গও ২৫ হাজার ফিটের কম নয় । এখানে সিন্ধু এবং তাহার লায়ক, নিওত্রা, চানচেঙ্গমে ও জানস্কর শাখা প্রবাহিত। পাৰ্ব্বত্য খাতবিশেষ লবণজলে পূর্ণ, তন্মধ্যে পাঙ্গকেজি ও ছোমোরিরি প্রধান । এই জনপদের প্রাকৃতিক পরিবর্তন ও অসাধারণ তুষারশীতল হিমালয় শিয়ে স্থাপিত হইয়াও এখানে গ্রীষ্মের মাত্র অত্যধিক বলিয়া বোধ হয়। দিবাভাগে এথানে দারুণ উষ্ণতা এবং স্নায়িতে মৰ্ম্মভেদী শৈত্য। শীতেয় আধিক্য এবং বায়ুর রূক্ষতানিবন্ধন এখানে বিশেষ কোন ফসলাদি উৎপন্ন হয় না। স্থানীয় তুষারমণ্ডিত শৈলশৃঙ্গ ব্যতীত এখানে আর কোন বিষয়েই প্রাকৃতিক সৌনার্য্যের গাম্ভীৰ্য্য পরিলক্ষিত হয় না, কেবল মায় প ধগুশিগয়জাত ঝাউ, ক এক প্রকার ফল বৃক্ষ ও কোন কোন কলাই স্থানবিশেষে জন্মিতে দেখা যায়। এই প্রদেশের উত্তরপূৰ্ব্ব অধিতাকায় এবং পৰ্ব্বতের ঢালু সামুদেশে মধ্যে মধ্যে বনমালা দৃষ্ট হয়। কিন্তু সেই বৃক্ষগুলি প্রায়ষ্ট পত্রষ্টীন এবং সেই জমিতে কোন প্রকার সব জিই উৎপন্ন হয় না । এখানকার বন্ত জস্তুর.মধ্যে কিয়াঙ্গ নামক বহু-গর্দভ, ভেড়া, ছাগল, খরগোষ ও Martnot এবং পক্ষীর মথ্যে ঈগল, পেরু, পাটজ ও বাল-হাস প্রধান। পালিত পশুর মধ্যে সচরাচর পনিযোড়া, গর্দভ, গোরু, ছাগল, ভেড়া ও কুকুর দেখা যায়। লালকবাসীর পালিত ভেড়ার লোমে শাল প্রস্তুত হয়। ঐ লোম প্রধানতঃ কাশ্মীর, নেপাল ও ইংরাজাধিকৃত ভারতে প্রেরিত হইয়া থাকে । ১৮৫৩ খৃষ্টাব্দে ডাঃ কনিংহাম লাদক হইতে কাশ্মীরে ২৪০০ মণ পশমের রপ্তানীর বিষয় উল্লেখ করিয়াছেন। এখানকার ছাগই সাধারণের বিশেষ উপকারে লাগে। ঐ সকল বৃহদাকার পাৰ্ব্বতীয় ছাগলের দুগ্ধ তাহারা পান করে এবং ছাগলের পৃষ্ঠে পণ্যদ্রব্যসমূহ চাপাইয়া স্থানান্তয়ে লইয়া যায়। কনিংহাম্ একদিন ঐক্লপ ছয় হাজার ছাগপৃষ্ঠে শাল, পশম, লোহাগা ও গন্ধক প্রভৃতি পণ্যদ্রব্য বহনের উল্লেখ করিয়াছেন । লাদকবাগী বণিক সম্প্রদায় ঐ সকল দ্রব্য লইয়া পাৰ্ব্বত্যপথে দক্ষিণপশ্চিম প্রদেশভাগে অবতরণ কল্পিত । এখামে যে সকল দ্রব্য উৎপন্ন হয়, তাহার মধ্যে পশম, সোহাগ, গন্ধক ও শুষ্ক ফলাদি প্রধান । ঐ সকল গ্রব্য তাং রা কাশ্মীর ও নিকটবর্তী হিন্দুস্থান, ইয়ারকন, খোটান এবং উত্তর ও পুৰ্ব্বে তিব্বতীয় প্রদেশভাগে বিক্রয়ার্থ লইয়া যায়। ঐ সকল দ্রব্যবিক্রয়ে তাহীদের যথেষ্ট লাভ হয়। তাহারা সেই মূল্যের বিনিময়ে ভারত হইতে কার্পাসৰন্ত্র, কাচ চামড়া,


পরিষ্কৃত চৰ্ম্ম, নানাপ্রকার শস্ত, বন্দুক, কামান ও চা প্রভৃতি দ্রব্য এবং চীনসাম্রাজ্য হইতে ছাগ ও ভেড়ার পশম, চা, স্বর্ণরেণু, রূপ, নানারূপ প্রাচীন মুদ্রা, রেশম ও চরস প্রভৃতি দ্রব্য আমদানী করিয়া থাকে। এই প্রদেশের মধ্যবর্তী রূপহু জেলায় আসিতে দুইট উৎকৃষ্ট পথ আছে। রূপহু হইতে বড়লাচ গিরিসঙ্কট দিয়া ইংরাজাধিকৃত ভারতে উপনীত হওয়া যায় এবং পরঙ্গ-ঘাট দিয়া লাহুল ও সিমলার শৈত্যাবাসে যাতায়াতের সুবিধা হয় বলিয়া অনেক ভ্রমণকারী বণিক্‌ ঐ পথে ভারত হইতে রূপমু ও সিমলা প্রভৃতি স্থানে গমন করিয়া থাকে। লাসা-নগরবাসী চা-ব্যবসায়িগণ লে প্রদেশে গমনকালে রূপমুর মধ্য দিয়া যাতায়াত করে । এখানকার অধিবাসিগণ লাদখি নামে পরিচিত। ইহারা বৌদ্ধধৰ্ম্মাবলম্বী। ইহাদের খৰ্ব্বাকৃতি ও দৃঢ় গঠন দেখিলে কদৰ্য্য তুরাণীয় জাতির শাখাভূক্ত বলিয়াই মনে হয়। ইহার সাধারণতঃ নিৰ্ব্বিরোধী। দলবদ্ধ হইয়া একত্র গ্রামে বাস করে, চা সবাসই তাহদের প্রধান উপজীবিকা। সমুদ্রপুষ্ট হইতে ৯৫০০ নাগাদ ১৩৫০০ ফিট উচ্চ স্থানে ইহাদের বাস আছে। ইহারা সৰ্ব্বদাই মনের আনন্দে বিভোর ; কোন বিশেষ কারণে, মদিরাদি মাদকদ্রব্য বা চঙ্গপানে উন্মত্তপ্রায় না হইলে ইহারা কখনও কাহার সঙ্গে বিবাদ করে না। ইহানের বেশভূষার বিশেষ পারিপাট্য নাই। পশমনিৰ্ম্মিত চোগ, পায়জাম, কোমরবন ও পায় মোট জুতা ব্যবহার করে। পুরুষেরা এবং স্ত্রীলোকেরা ঘাঘরার দ্যায় এক প্রকার অঙ্গরাখায় সৰ্ব্বাঙ্গ আবৃত করে, স্কন্ধদেশে সলোম চর্শ্বচ্ছ ও মস্তকে কড়ি বা শামুক দ্বার অলঙ্কৃত বস্ত্র আচ্ছাদন করিয়া থাকে। ঋতুর পরিবর্তনামুযায়ী ইহাদের বেশপরিপাট্য বা কোনরূপ পার্থক্য লক্ষিত হয় না। সকল লাদৰী পরিবারেই অল্প বিস্তর কৃষিক্ষেত্র রাখে। এখানে যবেরই অধিক চাস হয়। কোথাও কোথাও নিমজমিতে গম ও কলাই বোন হয়। ঘনত্বশ্বে যব সিদ্ধ করিয়া ইহার থাইতে ভালবাসে। চঙ্গ নামক মদ্য সাধারণের প্রিয়। অপেক্ষাকৃত । ধনবান ব্যক্তিরাই চা পান করিয়া থাকে। ইহারা সৰলকায় ও কৰ্ম্মঠ। অনায়াসেই বড় বড় বোঝা উচ্চ পৰ্ব্বতোপরি লইয়া যাইতে পারে। স্ত্রীলোকের পুরুষের স্থায় বলিষ্ঠ ও কৰ্ম্মপটু। ইহাদের মধ্যে অবরোধপ্রথা নাই। ইহার ইচ্ছামত যথাস্থানে বিচরণ করিয়া বেড়ায়। ধনবান ব্যক্তি ভিন্ন সাধারণতঃ রমণীদিগের একাধিক স্বামী দৃষ্ট হয় । ইহাতে তাহার কোন দোষ বিবেচনা করে না। সম্ভবতঃ প্রত্যেক পরিবারের নির্দিষ্ট পরিমাণ ভূমি থাকায়, তাহার উৎপন্ন শতাদি হইতে ইহার আপন আপন পরিবারদিগকে লালন পালন করিতে পারে