পাতা:বিশ্বপরিচয়-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নক্ষত্ৰলোক যে বিশ্বকে আমরা জানি, কোনো কোনো পণ্ডিত ঠিক করেছেন সে ক্রমশই ফুলে উঠছে। সুতরাং যতই ফুলছে ততই নক্ষত্রপুঞ্জের পরস্পরের দূরত্ব যাচ্ছে বেড়ে । যে বেগে তা’র সরছে তাতে আর একশো ত্রিশ কোটি বছর পরে তাদের পরস্পরের দূরত্ব এখনকার চেয়ে দ্বিগুণ হবে । অর্থাৎ এই পৃথিবীর ভূগঠনের সময়ের মধ্যে নক্ষত্রবিশ্ব আগেকার চেয়ে দ্বিগুণ ফেপে গিয়েছে । শুধু এই নয়, একদল বিজ্ঞানীর মতে এই বস্তুপুঞ্জসংঘটিত বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গে গোলকৰূপী অণকাশটাও বিস্ফারিত হয়ে চলেছে। এদের মতে আকাশের কোনো-এক বিন্দু থেকে সিধে লাইন টানলে সে লাইন অসীমে চলে না। গিয়ে ঘুরে এসে একসময়ে সেই প্রথম বিন্দুতে এসে পৌছয় । এই মত অনুসারে দাড়াচ্ছে এই যে, আকাশ-গোলকে নাক্ষত্ৰজগৎগুলি আছে, যেমন আছে পৃথিবী-গোলককে ঘিরে জীবজন্তু গাছপালা । সুতরাং বিশ্বজগৎটার ফেঁপে-ওঠা সেই আকাশমণ্ডলেরই বিস্ফারণের মাপে । কিন্তু মতের স্থিরতা হয়নি এ-কথা মনে রাখা উচিত ; আকাশ অসীম, কালও নিরবধি, এই মতটাও মরেনি। আকাশটাও বুদবুদ কি না এই প্রসঙ্গে আমাদের শাস্ত্রের মত এই যে সৃষ্টি চলেছে প্রলয়ের দিকে । সেই প্রলয়ের থেকে আবার নূতন স্থষ্টি উদ্ভাসিত হচ্ছে, ঘুম আর জাগার পালার মতো । অনাদিকাল থেকে সৃষ্টি ও Ψ Σ'