বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিশ্বমানবের লক্ষ্মীলাভ.djvu/১৮২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

পালান্ত পরিচ্ছেদ

কী হবে

 যে সব পাশ্চাত্ত্য পর্যটক আজকাল রুশে অবস্থা দেখতে যান, তাঁরা USSR-এর অধীনে শ্রমিকবর্গের সুখস্বচ্ছন্দে থাকার চেহারা অস্বীকার করতে পারেন না; অথচ তাঁরা যাকে সভ্যতা বলেন তার বিধিনিষেধ রীতিনীতি সব উলটপালট করেও যে, মানুষের ভালো চলতে পারে, সে কথা তাদের মন একদম নিতে চায় না; তাই ভীমরুলের যেমন লেজে হুল, তাঁদের মন্তব্যের শেষে একটা খোঁচা থেকে যায়—“এ ভালো কি টিঁকবে।”

 নগরকীর্তনে মেতে উঠে নাগরিকেরা কোলাকুলি করে, পরে উচ্ছ্বাস জুড়িয়ে গেলে, যে-দলাদলি সেই দলাদলি। এ স্থলেও, সেই পাশ্চাত্ত্য সমালোচকেরা বলেন, বিপ্লবের ঝাঁজ নরম পড়লে, আবার হবে ভাইভাই ঠাঁই-ঠাঁই। সেটা যাতে তাড়াতাড়ি হয়, আশপাশের হিতৈষী (!)-রা পথ চেয়ে বসে আছেন, সে কথা অবশ্য থাকে উহ্য।

 আমরা এ পথেরও কিছু জানি, ওপথেরও কিছু জানি; তাছাড়া মরে আছি বলে মরণদশারও লক্ষণ জানি। সে অবস্থায় USSR-এর ভবিষ্যতের বিষয়ে অন্তত আমাদের ধারণাটুক্ না বললে শ্রোতারা গোলমাল করতে পারে, ভাববে, কথক ফাঁকি দিয়ে উঠে পড়ল। তাই এই উপসংহার।

 যিশুখ্রীস্ট বলেছেন, তলোয়ার যার জীবিকা, তলোয়ারেই তার বিনাশ। USSR সম্বন্ধে এ কথা খাটে কি না সন্দেহ। কারণ রিপুর বশে তাঁরা তো অস্ত্র ধরেননি। দেশের প্রজাবৃন্দের উপর অনেক দিনের

১৮২