পাতা:বেতালপঞ্চবিংশতি.pdf/৩৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
২৯
বেতালপঞ্চবিংশতি

কুমারের নিকটে আসিয়া লজ্জানম্র মুখে কহিতে লাগিলেন মিত্র আজি আমি এক পরম সুন্দরী রমণী নিরীক্ষণ করিয়াছি। তাহার নাম ধাম কিছুই জানিতে পারি নাই। কিন্তু মনে মনে প্রতিজ্ঞা করিয়াছি তাহাকে না পাইলে প্রাণত্যাগ করিব। আমাত্যপুত্ত্র সমস্ত শ্রবণ করিয়া তৎক্ষণাৎ তাঁহাকে গৃহে প্রত্যানয়ন করিলেন। রাজকুমার দুঃসহ বিরহবেদনায় নিতান্ত অধীর হইয়া শাস্ত্রচিন্তা সদালাপ রাজকার্য্যপর্য্যালোচনা ও আবশ্যক স্নানভোজনাদি ক্রিয়া পর্য্যন্ত পরিত্যাগ করিয়া একাকী নির্জনে বিষণ্ণ মনে কালযাপন করিতে লাগিলেন। পরিশেষে চিত্তবিনোদনের কোন উপায় না দেখিয়া স্বহস্তে সেই কামিনীর প্রতিমূর্ত্তি চিত্রিত করিলেন। দিন যামিনী কেবল সেই প্রতিমূর্ত্তি সন্দর্শন করেন। কাহারও সহিত বাক্যালাপ করেন না কেহ কিছু জিজ্ঞাসা করিলেও উত্তর দেন না। সর্ব্বাধিকারিপুত্ত্র নৃপনন্দনের তাদৃশী দশা নিরীক্ষণ করিয়া উপদেশচ্ছলে অশেষপ্রকার ভর্ৎসনা করিলেন।

 প্রিয় বয়স্যের উপদেশবাক্য শ্রবণ করিয়া রাজকুমার কহিলেন সখে আমি যখন এ পদবীতে পদার্পণ করিয়াছি তখন আমার হিতাহিত চিন্তা ও সুখ দুঃখ বিবেচনা নাই। নিশ্চয় করিয়াছি মনোরথ সম্পন্ন না হইলে জীবন পরিত্যাগ