পাতা:ব্যঙ্গকৌতুক - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


૪ ર ব্যঙ্গকৌতুক আমি মূখ—আমি কুসংস্কারাচ্ছন্ন, তাই, ভাই, আমি বিশ্বাস করি, প্রাচীন ভারতে গ্যালভানিক ব্যাটারি ছিল এবং অক্সিজেন বাম্পের অস্তিত্বও অবিদিত ছিল না। কেন বিশ্বাস করি ? আগে নিষ্ঠার সহিত কুৰ্ম্ম, কল্কি ও স্কন পুরাণ পাঠ করে, গো এবং ব্রাহ্মণের প্রতি ভক্তি স্থাপন করে, স্নেচ্ছের অন্ন যদি থাইতে ইচ্ছা হয় তো গোপনে থাইয়া সমাজে অস্বীকার করে, যতটুকু নব্য শিক্ষা হইয়াছে সম্পূর্ণ ভুলিয়া যাও, তবে বুঝিতে পারিবে, কেন বিশ্বাস করি । আজ তোমাকে যাহা বলিব, তুমি হাসিয়া উড়াইয়া দিবে। আমার যুক্তি তোমার কাছে অজ্ঞের প্রলাপ বলিয়া প্রতীয়মান হইবে । তবু একবার জিজ্ঞাস করি, কীটে যতটা খাইয়াছে এবং মুসলমানে যতটা ধ্বংস করিয়াছে, তাহার কি একটা হিসাব আছে । যে পাপিষ্ট ঘবন ভারতের পবিত্র স্বাধীনতা নষ্ট করিয়াছে, ভারতের গ্যালভানিক ব্যাটারির প্রতি যে তাহারা মমতা প্রদর্শন করিবে, ইহাও কি সম্ভব ! যে ম্লেচ্ছগণ শত শত আৰ্য্যসন্তানের পবিত্র মস্তক উষ্ণীষ ও শিখা সমেত উড়াইয়া দিয়াছিল, তাহারা যে আমাদের পবিত্র দেবভাষা হইতে অক্সিজেন বাষ্পটুকু উড়াইয় দিবে, ইহাতে কিছু বিচিত্র আছে ? এই তো গেল প্রথম যুক্তি। দ্বিতীয় যুক্তি এই যে, যদি ঘবনগণের দ্বারাই গ্যালভানিক ব্যাটারি ও অক্সিজেনের প্রাচীন নাম লোপ না হইবে, তবে তাহা গেল কোথায়—তবে কোথাও তাহার কোনো চিহ্ন দেখা যায় না কেন ? প্রাচীন শাস্ত্রে এতে শত ঋষি মুনির নাম আছে, তন্মধ্যে গম্বন ঋষির নাম বহু গবেষণাতেও পাওয়া যায় না কেন ? যে পবিত্র ভারতে দধীচি বজ্রনিৰ্ম্মাণের জন্য নিজ অস্থি ইন্দ্রকে দান করিয়াছেন, ভীমসেন গদাঘাতের দ্বারা জরাসন্ধকে নিহত করিয়াছেন, এবং জহ্নমুনি গঙ্গাকে এক গণ্ডষে পান করিয়া জাহ দিয়া নিঃসারিত করিয়াছেন, যে ভারতে ঋষিবাক্যপালনের জন্য বিন্ধ্য পৰ্ব্বত আজিও