পাতা:ভারত পথিক - সুভাষ চন্দ্র বসু.pdf/২২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

লাভ করেছিল দত্তরা তাদের অন্যতম। তখনকার সেই নব্য-অভিজাত সমাজে দত্তরা বিশিষ্ট স্থান অধিকার করেছিল। আমার মায়ের পিতামহ কাশীনাথ দত্ত পরিবার থেকে ভিন্ন হয়ে যান এবং কলকাতার উত্তরে প্রায় ছ’মাইল দূরে বরানগরে বিরাট এক দালাল তৈরি করে তিনি স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকেন। তিনি অত্যন্ত পণ্ডিত লোক ছিলেন—দিনরাত বই নিয়েই থাকতেন। ছাত্ররা নানাভাবে তাঁর কাছে সাহায্য পেত। তিনি কলকাতার জার্ডিন, স্কিনার অ্যান্ড কোম্পানি নামে একটি বৃটিশ সওদাগরী অফিসের একজন উচ্চপদস্থ কর্মচারী ছিলেন। আমার মায়ের পিতা এবং পিতামহ দুজনেই তাঁদের জামাতা নির্বাচনে বিশেষ দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছিলেন। তখনকার দিনে কলকাতার বিশিষ্ট অভিজাত পরিবার ক’টির সঙ্গে এইভাবে তাঁরা বৈবাহিক সম্বন্ধ স্থাপন করেছিলেন। কাশীনাথ দত্তের এক জামাতা স্যার রমেশচন্দ্র মিত্র ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রথম ভারতীয় চীফ্ জাস্টিস্। আর এক জামাতা রায় বাহাদুর হরিবল্লভ বসু আইনজীবী হিসেবে উড়িষ্যায় অসাধারণ প্রতিপত্তি লাভ করেন। তিনি আমার পিতার বহু আগেই কটকে গিয়ে বসবাস করছিলেন।

আমার মাতামহ গঙ্গানারায়ণ দত্ত নাকি আমার পিতাকে জামাতা হিসেবে গ্রহণ করবার আগে তাঁর বুদ্ধিবিবেচনা ভালো করে পরীক্ষা করে নিয়েছিলেন। আমার মা ছিলেন তাঁর বোনদের মধ্যে সবচেয়ে বড়। মায়ের অন্য বোনদের স্বামীদের নাম বরদাচন্দ্র মিত্র, সি. এস., ডিস্ট্রিক্ট ও সেসানস্জ জ্ বেনারসের উপেন্দ্রনাথ বসু, চন্দ্রনাথ ঘোষ, সাবর্ডিনেট জজ্, এবং কলকাতার রায়বাহাদুর চুণীলাল বসুর কনিষ্ঠ ভ্রাতা ডাক্তার জে. এন্. বসু।

১২