পাতা:ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/১৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ।

১৭

কর্ম্মচারীর দ্বারা তাহার কোনরূপ অনিষ্ট হইবার সম্ভাবনা নাই; অধিকন্তু সরকারি কার্য্যে সাহায্য করিতে গিয়া যদি সে কোনরূপে বিপদগ্রস্ত হয়, তাহা হইলেও ঐ কর্ম্মচারী তাহাকে বিপদ হইতে আশু উদ্ধার করিবেন।

 মনে মনে এইরূপ ভাবিয়া, সে একদিবস সেই কর্ম্মচারীকে কহিল, “আমি আপনার নিকট হইতে অনেক অর্থ গ্রহণ করিয়াছি, কিন্তু এ পর্য্যন্ত আমি আপনার বিশেষ কোন কার্য্য করিয়া উঠিতে পারি নাই; ইহার নিমিত্ত আমি মনে মনে অত্যন্ত লজ্জিত আছি। এখন আমি স্থির করিয়াছি যে, অভাব পক্ষে পনের দিবসের মধ্যে একবার একাকী বহির্গত হইব। ইহার মধ্যে আপনি আমার কোনরূপ সংবাদ লইবার চেষ্টা করিবেন না।

 কর্ম্ম। তুমি কোথায় যাইবে?

 আবেদ। তাহা আমি এখন আপনাকে বলিব না, আর বলিবই বা কি? আমি যে কোথায় যাইব, তাহা আমি এখন নিজেই জানি না, ইচ্ছা করিয়াছি, আমি কোনরূপে আর একবার ডাকাইত দলের সহিত মিশিব, যদি কৃতকার্য্য হইতে পারি, তাহা হইলে দলপতির সহিত সকলকেই ধরাইয়া দিয়া আপনার ঋণ হইতে নিষ্কৃতি লাভ করিব।

 কর্ম্ম। কতদিন পরে আবার দেখা হইবে?

 আবে। তাহা আমি এখন বলিতে পারি না। কিন্তু যতদিনই হউক না কেন, পনের দিনের মধ্যে আমি একবার আসিয়া আপনার সহিত সাক্ষাৎ করিব ও কতদূর কৃতকার্য্য হইতে পারিয়াছি, তাহাও আমি আপনাকে বলিয়া যাইব। কিন্তু—

 কর্ম্ম। কিন্তু কি?—

 আবে। আমার পরিবারবর্গ?

 কর্ম্ম। তোমার পরিবারবর্গের নিমিত্ত তোমাকে ভাবিতে হইবে না, সে ভার আমার উপর রহিল, তাহাদিগের সংবাদ আমি সর্ব্বদা গ্রহণ করিব ও তাহাদিগের নিমিত্ত যাহা কিছু খরচ হইবে, তাহা এখন আমি যেরূপভাবে দিতেছি, সেইরূপ ভাবেই দিয়া আসিব; সে সম্বন্ধে তোমাকে আদৌ কোনরূপ ভাবিতে হইবে না।

 এই বলিয়া আবেদ আলি কর্ম্মচারীর নিকট বিদায় গ্রহণ করিয়া, সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিল। সে যে কোথায় গেল, কেহ জানিল না, বা কেহই বলিতে পারিল না। আট দশ দিবস কেহ তাহাকে আর সেই স্থানে দেখিতে পাইল না, বা তাহার কোনরূপ সংবাদও পাওয়া গেল না। দ্বাদশ দিবসে সে হঠাৎ কোথা হইতে আসিয়া সেই কর্ম্মচারীর সহিত সাক্ষাৎ করিল, ও কহিল, যে দলের দ্বারা আজ কাল ডাকাইতি হইতেছে, আমি তাহার সন্ধান করিয়া আসিয়াছি, যদি অনুমতি হয়, আমি তাহার ভিতর গিয়া প্রবিষ্ট হই।