পাতা:মানিক গ্রন্থাবলী (প্রথম খণ্ড).pdf/৬৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


48 পরীক্ষা পৰ্য্যন্ত আরও একটা বছর ছেলের পড়ার খরচ দিতে পরিবে না ভাবিয়াই শ্যাম যে ক্ষেপিয়া যাইতে বসিয়াছিল বিধান তো তাহা জানিত না, চাকরিটা তাহার নব্বই টাকার শুনিয়াই শ্যামা এমনভাবের কৃতাৰ্থ হইয়া গেল যে বিধান অবাক হইয়া রহিল। সন্দিগ্ধভাবে সে জিজ্ঞাসা করিল, খুসি হওনি মা তুমি ? খুসি হয় নাই !-খুসিতে শ্যামা আবোল তাবোল বকিতে আরম্ভ করে, এতকাল শ্যামাকে যারা অবহেলা অপমান করিয়াছে তাদের টিটকারি দেয়, কলিকাতায় মন্ত বাড়ি ভাড়া নেয়, বকুলকে আনে, বিধানের বিবাহ দেয়, দাসদাসীতে ঘরবাড়ি ভরিয়া ফেলে। তারপর হাসিমুখে সকলকে ডাকিয়া বিধানের চাকরির কথা শোনায়, তার দুধের ছেলে নব্বই টাকার চাকরি যোগাড় করিয়াছে, কারো সাহায্য চায় নাই, কারো তোষামোদ করে নাই,-বল তো বাছা এবার তাদের মুখ রইল কোথায় ছেলেকে আমার পড়ার খরচন্টুকু পৰ্যন্ত যারা দিতে চায় নি ? কথাবাত শুনিয়া মনে হয় শু্যামা সত্যই বড় অকৃতজ্ঞ । এতগুলি বছর যার আশ্রয়ে সে থাকিয়াছে এখন ছেলের চাকরি হওয়ামাত্র নিন্দা আরম্ভ করিয়াছে তার। এরা যে, কত করিয়াছে তার জন্য সব সে ভুলিয়া গিয়াছে, মনে রাখিয়াছে শুধু ত্রুটি-বিচূতি, অপমান অবহেলা! মন্দা রাগিয়া বলে, ধন্যি তুমি বীে, এতও ছিল তোমার পেটে পেটে । এত যদি কষ্ট পেয়েছ তুমি এখেনে থেকে, থাকলে কেন ? নিজের রাজ্যপাটে গিয়ে বসলে না কেন রাজরাণী হয়ে ? আজি পাঁচ বছর তোমাদের পাঁচটি প্ৰাণীকে আমি পুষলাম, ছেলে পড়ালাম মেয়েব বিয়ে দিলাম তোমার, আজ দিন পেয়ে আমাদের তুমি শাপছা! অবাক হইয়া শুনিয়া শ্যামা কঁদিতে কঁাদিতে বলে, না ঠাকুরবি, তোমাদের কিছু বলিনি তো আমি, কেন বলব তোমাদের ? কম করেছ। আমার তোমরা !! আমাকে কিনে রেখেছি। ঠাকুরছি, তোমাদের ঋণ আমি সাত জন্মে শোধ দিতে পারব না। তোমাদের নিন্দে করে একটি কথা কইলে মুখ আমার খসে যাবে না, কুষ্ট হবে না। আমার জিভে - বলে আর হাউ হাউ করিয়া কঁাদিয়া শ্যামা ভাসাইয়া দেয়। শ্যামা কি পাগল হইয়া গিয়াছে ? এতদিনে তার আবার সুখের দিন সুরু হইল, এমন সময় মাথাটা গেল তার খারাপ হইয়া ? অনেক বলিয়া বিধান তাহাকে শোয়াইয়া রাখিল, বারবার জিজ্ঞাসা করিল, তোমার কি হয়েছে মা ?--তারপর খামা অসময়ে আজ ঘুমাইয়া পড়িল। অনেকক্ষণ ঘুমাইয়া সে যখন জাগিল আর তাকে অশান্ত মনে হইল না। সে শান্ত নীরব হইয়া রহিল। কত কথা শ্যামার বলিবার ছিল, কত হিসাব কত পরামর্শ কিন্তু এক অসাধারণ নীরবতায় সব চাপা পড়িয়া রহিল। বিধান বলিল, কলিকাতায় সে বাড়ি ভাড়া করিয়া আসিয়াছে, HH BB BB K DBBDD DDSDDSDBD DDSS DD মানিক-গ্ৰন্থাবলী S|G| | ESTo Evice QsfT:) Gf: 5[Tf SGXfNT একটা মাসও অপেক্ষা না করিয়া সকলের চলিয়া যাওয়াটা বোধ হয় ভাল দেখাইবে না, বিধান এই কথা বলিলে শ্যামা সায় দিয়া গেল। কিন্তু কোকের মাথায় বাড়িটাড়ি যখন সে ঠিক করিয়াই আসিয়াছে দু’চার দিন পরে চলিয়া তাদের যাইতে হইবে, বিধান এই কথা বলিলে শ্যামা তাতেও সায় দিল। ছেলের সব কথাতেই সে সায় দিয়া গেল । শেষে বিধান বলিল, পড়া ছেড়েছি বলে তুমি নিশ্চয় রাগ कgछ भी ! শ্যামা একটু হাসিল, না খোকা রাগ করিনি, বড় হয়েছ এখন তুমি বুঝে শুনে যা করবে। তাই হবে বাবা, তোমার চেয়ে ৩ মি তো ভাল বুঝিনে, আমার বুদ্ধি কতটুকু ? কাজে যোগ দিতে বিধানের দিন দশেক দেরি ছিল, যাই যাই করিয়াও দিন সতেক এখানে তাহারা রহিয়া গেল। শীতল চাকরি ছাডিয়া দিয়া নিশ্চিন্ত মনে জামগাছের তলে বসিয়া তামাক টানিতে লাগিল, পোষা কুকুরটি শুইয়া রহিল তাহার পায়ের মধ্যে মুখ গুজিয়া। শীতলের ইচ্ছা আছে কুকুরটিকেও সঙ্গে লইয়া যাইবে কলিকাতায়, কিন্তু মনের ইচ্ছা প্ৰকাশ করিতে তার সাহসী হইল না। পাগল হওয়ার আর কোন লক্ষণ শু্যামার দেখা গেল না, সেদিন ঘুমাইয়া উঠিয়া তার যে অসাধারণ নীরবতা আসিয়াছিল তাই শুধু কায়েমি হইয়া রহিল। আর যেন তাহার কোন বিষয়ে দায়িত্ব নাই, মতামত নাই, সে মুক্তি পাইয়াছে! জীবন-যুদ্ধ তাহার শেষ হইয়া গিয়াছে, এবার বিধান লড়াই চালাক, বিধান সব ব্যবস্থা করুক, সংসারের ভাল মন্দের দায়িত্ব থাকা বিধানের, শ্যামা কিছু জানে না, জানিতে চাহে না-ঘরের মধ্যে অন্তঃপুরের গোপনতায় তার যা কাজ এবার তাই শুধু সে করিবে ; উপকরণ থাকিলে রাধিয়া দিবে পোলাউ, না থাকিলে দিবে। শাক ভাত। বিধান তাহাকে এখানে রাখিলে এখানেই সে থাকিবে, কলিকাতা লইয়া গেলে কলিকাতা যাইবে, সব সমান শ্যামার কাছে। বিধানের চাকুরি-লাভও শ্যামার কাছে যেন আর উল্লাসের ব্যাপার নয়, খুবই সাধারণ ঘটনা। এই তো নিয়ম সংসারের ? স্বামি-পুত্র উপাজন করে, স্ত্রী ও জননী ভাত রাধে। আর ভালবাসে। আর সেবা-যত্ন করে। আর নির্ভয় নিশ্চিন্ত হইয়া থাকে অক্ষয় অমর একটি নির্ভরে । শহরতলীতে নয়, এবার খাস কলিকাতায় নুতন বাড়িতে শ্যামা নূতন সংসার পাতিল। বাড়িটা নূতন সন্দেহ নাই, এখনো রঙের গন্ধ মেলে। দোতলা বাড়ি, একতলাতে বাড়িওলা থাকে। দোতলার মাঝামাঝি কাঠের ব্যবধান, প্ৰত্যেক ভাগে দুখানা ঘর। রান্নার জন্য ছাদে দুটি ছোট ছোট টিনের চালা। খামারা থাকে দোতালার সামনের অংশটিতে, রাস্তার উপরে ছোট একটু বারান্দা আছে। একটি