পাতা:মায়াবাঁশী - রবীন্দ্রনাথ মিত্র.pdf/৩৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।

২৭

মায়াবাঁশী

 জডিগ পথে বেরিয়ে ফিরে দেখে বুড়োর ঘরে আগুন। ‘আগুন’ বলে চেঁচিয়ে উঠবে, এমন সময় গালে পড়ল বিরাশী শিক্কা ওজনের সাধুর এক চড়। জডিগ রুখে উঠতেই সাধু বললেন, “আগুন দিয়েছি আমি নিজে। কেন দিয়েছি জিজ্ঞাসা কোরো না।“জডিগের মন একেবারে ছোট হয়ে গেল। এত আদর যত্ন যে লোকটা করলে, একখানা রুটীর যার সংস্থান নেই, তার যথাসর্ব্বস্ব কুঁড়েখানা পুড়িয়ে সাধুর কি পরমার্থ লাভ হল! মনে মনে বললে, নেমকহারাম জানোয়ার। চেয়ে দেখে যে তিনি হাসছেন। দেখে তার পা থেকে মাথা পর্য্যন্ত রাগে জ্বলে উঠলো, কিন্তু মুখে কিছু বললে না।

 সমস্ত দিন সাধু কতরকম হাসির গল্প করতে করতে চললেন। জডিগের সে দিকে কান ছিল না। শুধু ভাবছিল সাধুর অদ্ভুত ব্যবহারের কথা। সাধুর এই নৃশংস আচরণ দেখে তার মনে দারুণ ঘৃণা বোধ হচ্ছিল। একবার মনে হয়েছিল, সেই মুহূর্ত্তেই সাধুর সঙ্গ ছেড়ে সে চলে যায়। কিন্তু শেষ অবধি না দেখে আর এই ভণ্ড তপস্বীকে একবার সায়েস্তা না করে সে যাবে না। এই রকম একটা ছোট সঙ্কল্পও সে মনে মনে করে নিয়েছিল।

 রাত্রের আঁধার যখন ঘনিয়ে এল, তখন সাধু একটা ছোট