পাতা:মায়াবাঁশী - রবীন্দ্রনাথ মিত্র.pdf/৪৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।

মায়াবাঁশী

৩২

এক প্রহর রাতে—এর মধ্যে খাওয়া নেই, বিশ্রাম নেই। যদি বড় লোক হতে পারতাম! সকাল বেলা কাজের কোন তাড়া নেই, ন’টার সময় ঘুম ভাঙ্গল, চাকর-বাকর সব সামনে খাবার নিয়ে হাজির আছে, ভাল ভাল ফলমূল খেয়ে দিব্যি আরামে ঘুমুতে লাগলাম; চাকর বাতাস করতে লাগল। পিপাসার সময় গেলাসখানেক আপেলের রস খেলাম; সন্ধ্যার সময় ফুলেল আতর মেখে তাঞ্জামে চেপে ঘুরে এলাম, তার পরেই ভরপেট খেয়ে এক ঘুম। তার পরদিন আবার বেলা নটা। কি স্ফূর্ত্তিই হ’ত তাহলে।”

 আকাশ দিয়ে দেবদূত যাচ্ছিলেন। কুলীর কথা শুনতে পেলেন। তাঁরা দেবদূত, অতি ছোট কথাও শুনতে পান। এমন কি মানুষের মনের কথা পর্য্যন্ত। তাই কুলীর মনের কথা শুনে বললেন, “আচ্ছা তাই হোক।”

 হঠাৎ কুলীর মনে হ’ল, হাত খালি হাতুড়ী নেই। চার পাশে চেয়ে দেখে, লোকেরা কেউ বাতাস কচ্ছে, কেউ খাবার হাতে ক’রে দাঁড়িয়ে আছে। কোথায় হাতুড়ী, আর কোথায় পাথর! সে বসে আছে নরম গালিচার উপর। হাতে হাতুড়ীর বদলে মসলা ভরা একটী সোনার পানের ডিবে। দেখে শুনে কুলীর মন খুসী হ’য়ে উঠল। ছিল কুলী হ’ল জমিদার। সে কেবলই হুকুম চালাতে লাগল।