পাতা:মিবার-গৌরব-কথা - হেমলতা দেবী.pdf/৫৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ধাত্রী পান্না।

৪৭

প্রতাপের শয্যা দেখাইয়া চক্ষুঃ না ফিরাইতেই পামর বনবীর শিশুর বক্ষঃস্থলে তরবারি বিদ্ধ করিয়া দিল। পান্নার প্রাণের ভীষণ অবস্থা শোকের অতীত। আজ তাহার চক্ষে অশ্রু নাই, বদনে এক ভৈরব ভাবের আবির্ভাব হইল। উন্মত্তের ন্যায় ত্বরিত-পাদবিক্ষেপে গৃহ হইতে নির্গত হইয়া উর্দ্ধশ্বাসে উদয়সিংহের পশ্চাতে ধাবমান হইল। পান্নার চক্ষে চিতোরপুরী আজ এক ভীষণ নরকের মর্ত্তি ধারণ করিয়াছে। হায় ভগবন্, এই কি শিশোদীয় কুলের পবিত্র পীট চিতোর?—পাষণ্ড বনবীর যে আজ নারকীয় দৃশ্যের অভিনয় করিতেছে? কোথায় পলায়ন করি? এই পামরের হস্ত হইতে সংগ্রামসিংহের বংশধরকে রক্ষা করি কিরূপে?—জোড়হস্তে উর্দ্ধানেত্রে পান্না ক্রমাগত বলিতেছে, “ভগবন্, রক্ষা কর! জননী হইয়া নিদ্রিত অসহায় শিশুকে বলি দেওয়া অপেক্ষা অভাগিণী পান্না আর কি করিতে পারে?— হায় আমার অভাগা শিশু, শৈশবে তুমি যে রাজকুমারের জন্য মাতৃদুগ্ধে বঞ্চিত হইয়াছিলে। আজ তাহার জন্য তোমার সুকুমার জীবন ধ্বংস হইল! ওঃ! আমি দৃশ্যই দেখিলাম! হায় আমি কি কুক্ষণেই রাজপুরীতে পদার্পণ করিয়াছিলাম! সাধ্বী মহিষি, আজ তুমি স্বর্গ