পাতা:মুক্তি-পথে - গোপীপদ চট্টোপাধ্যায়.pdf/১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১২
মুক্তি-পথে

জগৎকে একেবারে বাদ দেওয়া চলে না। এ যুগ হচ্ছে শক্তি-পরীক্ষার যুগ। যে বীর, যে শক্তিশালী, সেই টিকে থাকবে এ যুগে। যদি শক্ত হয়ে, যোগ্যতম হয়ে বেঁচে থাকতে চান তবে—

সরোজ—তোমার আবার মতলবখানা কি?

কল্যাণ—আমার মতলব অতি মহৎ। আপনি কি জানেন না এমন একদিন আসবে, যেদিন মানুষকে জরা, বাৰ্দ্ধক্য, মৃত্যু এসে গ্রাস করবে? সেদিন অতি নিশ্চিত, অতি ধ্রুব। এদের হাত থেকে উদ্ধার পেতে হলে—

সরোজ—সোজা উপায় হচ্ছে সংসারের অনিত্যতা সম্বন্ধে চিস্তা করা। বুদ্ধদেব, শঙ্করাচার্য্য, শ্রীচৈতন্য এদেরই আদর্শকে অনুসরণ করা।

কল্যাণ—দেখুন, সরোজ বাবু, অনেক ভেবে চিন্তেই বাপ, মা আমার নাম রেখেছিলেন কল্যাণকুমার! তাই আমি ঘরে ঘরে ফিরি কল্যাণের বাৰ্ত্তা নিয়ে; দুঃস্থ বাঙ্গালীর ঘরে ঘরে উদাত্ত কণ্ঠে বলে বেড়াই, বাঙ্গালীর এই দুঃখ-দৈন্যের একমাত্র প্রতিকার জীবন-বীমায়।

দিলীপ—ভ্যালা বিপদ দেখছি! এক গুড়ের দালালের জ্বালায় অস্থির, আবার এসে জুটল জীবন-বীমার দালাল। ষড়যন্ত্র, ভীষণ ষড়যন্ত্র! বেঁচে থাকে বিদ্যাপতি, বেঁচে থাকো চণ্ডীদাস!

[ প্রকাশ বাবুর প্রবেশ ]

প্রকাশ—এই যে সকলেই হাজির দেখছি। কবি ভায়ার খবর কি? বিদ্যাপতির চর্চা হচ্ছে—না চণ্ডী ঠাকুরের?

দিলীপ—দ্যাখো প্রকাশ, ভগবান তোমার ঐ দেহখানাকে তৈরী করেছেন কতকগুলো শুকনো হাড় দিয়ে। ওতে মেদ নাই, মাংস