বিধিমত হইল কত দেবতা পূজন।
বনদুর্গা একাচুরা খেলা কীর্ত্তন॥
জোর পাঠা দিয়া বলি শ্যামাপূজা করে।
মইষ দিয়া পূজা দিল দেবী ডরাইরে[১]॥
বিয়ার দিনেতে রাজা হইয়া উতজুগ।
মণ্ডপে বসিয়া তবে করে নান্দিমুখ।
নান্দিমুখের মাটী কাটে যত নারীগণ।
তার গীতেতে যেমন ছাইল গগন॥
তার পরে সোহাগের ডালা মাথায় করিয়া।
সোহাগ মাগে কমলার মা পাড়া জুড়িয়া॥
আগে চলে কন্যার মাগো পাছে যায় মামী।
গীত-জুকারে নারী, চলে গজগামী॥
তার পাছে চলে ঢুলি বাদ্যভাণ্ড লইয়া।
এই মতে আইল সবে সোহাগ মাগিয়া॥
কাকেতে কলসী লইয়া যতেক যুবতী।
জল ভরিতে যায় সবে পাছে বাদ্য-গীতি॥
নদীর ঘাটে জল ভরিয়া পন্থে মেলা দিয়া।
গীত-জুকারে আইল বাড়ীতে ফিরিয়া॥
সমুখে জলের ঘট নতুন কাপড় পরি।
বরকন্যা বসিল যে হইতে খৌরী॥
নবদ্বীপ তনে নাপিত আইল কামাইতে।
সেই নাপিত কামায় সোনার নরুন-ক্ষুরেতে॥
জয়া জুকারে দেখ যতেক যুবতী।
হরম অন্তরে গায় কামানির গীতি॥
তার পরে যে গেল তারা সিনান করিবারে।
সব সখী মিল্যা গাষ্ট ঘিলা[২] মাজন করে॥
হলুদ মাখিয়া গায়ে যতেক সুন্দরী।
ভরা কলসীর জল ঢালে ত্বরা করি॥
পাতা:মৈমনসিংহ গীতিকা (প্রথম খণ্ড) - দীনেশচন্দ্র সেন.pdf/২১৭
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
কমলা
১৬৭