পাতা:যশোহর-খুল্‌নার ইতিহাস প্রথম খণ্ড.djvu/৪১৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

ՓՅԵ যশোহর-খুলনার ইতিহাস । বোধ হয় না, কারণ এ অঞ্চলের অধিবাসিগণ র্তাহার জনহিতকর কার্যের জন্ত মুগ্ধ হইয়াছিল, এবং সৰ্ব্বশেষে তাঙ্গর ধৰ্ম্মজীবন ও সাধুচরিত্র দেখিয়া ভক্তিমান না হইয়া পারে নাই। সাধারণ লোকের এই ভক্তি ও প্রতি শুধু তাহার ও র্তাহার অনুচরদিগের মুখ্য সাধনা যে সহজসাধ্য করিয়া দিয়াছিল, তাহা নহে ; ইহা দ্বারা সমস্ত পাঠান ও এমন কি, মুসলমান জাতিকে কতকটা আত্মীয় ও আপনজনের মত দেখিতে হিন্দুদিগকে প্রবর্তিত করিয়াছিল। ইহারই ফলে ক্রমশঃ পাঠানগণ কোষবদ্ধ অসি লইয়া দেশবাসীর নিকট হইতে রাজস্ব সংগ্রহের সুযোগ পাইয়াছিলেন। পরের দেশে আত্মপ্রাধান্ত স্থাপনের এমন ভিত্তি আর কিছুতেই হইতে পারে না । হিন্দুর দেশে ধৰ্ম্মতত্বের বিচার দ্বারা নব-মত সংস্থাপন করা অতীব দুঃসাধ্য। কিন্তু জাতিধৰ্ম্মনিৰ্ব্বিশেষে সৰ্ব্বজনহিতকর কার্য্যের অনুষ্ঠান করিলে, তাহার জলকষ্ট দূরীভূত করিলেন ; স্বপ্রশস্ত এবং ছায়াবহুল রাস্ত নিৰ্ম্মাণ করিয়া যাতায়াতের প্রণালী সুগম করিলেন ; নানা উপায় অবলম্বন করিয়া কৃষিকার্য্যের উন্নতি সাধন করিলেন । তিনি প্রজার নিকট হইতে রাজস্ব বলিয়া যে অর্থ সংগ্ৰহ করিতেন, তাহার কতক দান প্রভৃতি সৎকার্য্যে প্রজার মধ্যে বিতরণ করিতেন, কতক মসজিদাদি ইরামত নিৰ্ম্মাণ করিতে গিয়া দেশীয় শ্রমজীবীদিগের হস্তে পৌছাইয়া দিতেন, অবশিষ্ট সঞ্চিত অর্থ প্রজার জন্ত মৃত্তিকাগর্ভে গচ্ছিত রাখিতেন। তাহার সময় হইতে প্রচার হইয়াছিল যে, তিনি ৩৬০ বিঘা জমিতে অপরিমিত ধনরাশি লুক্কায়িত রাখিয়াছেন। একথা সত্য। র্তাহার মৃত্যুর পর হইতে বহুলোকে তাহার হৰ্ম্ম্যাদির ভিতর বা অন্যত্র মৃত্তিকনিয়ে যথেষ্ট অর্থ পাইয়া সমৃদ্ধিশালী হইয়াছে। লোকে বলিয়া থাকে, বাগেরহাটের নিকটবৰ্ত্তী প্রধান প্রধান সমৃদ্ধিসম্পন্ন জমিদারবংশের উন্নতিলাভের ইহাই মুখ্য কারণ। এমন কি, এখন দুইজন লোকে একত্র কোন জমিতে উপস্থিত হয়। কেহ কেহ বলেন, খ জাহান আলির এইরূপ ধন পুতির রাখিবার একটি উদেশ্ব ছিল। জমি গভীর করিয়া খনন করিলে, তাহার