পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অচলিত) দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/১১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সমালোচনা పిd জ্যোংস্কাকে ধরিবার উপায় নাই । বসন্ত-বায়ু হু হু করিয়া বহিয়া যায়। কে জানে কোথা হইতে বহিল ! কোন অদৃশ্ব দেশ হইতে আসিল, কোন অদৃশ্ব দেশে চলিয়া গেল ! আসিল, চলিয়া গেল, বড়ই ভাল লাগিল ; কিন্তু তাহাকে দেখিলাম না, শুনিলাম না, সৰ্ব্বতোভাবে আয়ত্ত করিতেই পারিলাম না । শরীরে যে স্পর্শ হইল, তাহা অতি মৃদু স্পর্শ, কোমল স্পর্শ, কঠিন ঘন স্পর্শ নহে, কাজেই উপভোগে নানা প্রকার অভাব রহিয়া গেল। মধুর সঙ্গীতে মন কাদিয়া ওঠে সেই জন্যেই। আবার জ্যোংস্কা-রাত্রে সে সঙ্গীত পুষ্পের গন্ধের সঙ্গে, বসন্তের বাতাসের সঙ্গে দূর হইতে আসিলে মন উন্মত্ত করিয়া তুলে । অন্যান্য অনেক ঋতু অপেক্ষ বসন্ত ঋতুতে সকলি অপরিস্ফুট, মৃদু, কিছুই অধিক মাত্রায় নহে – দক্ষিণের দ্বার খুলি মৃদু মন্দ গতি বাহির হয়েছে কিবা ঋতুকুল পতি । লতিকার গাটে গাটে ফুটাইছে ফুল, অঙ্গে ঘেরি পরাইছে পল্লব দুকুল । কি জানি কিসের লাগি হইয়া উদাস ঘরের বাহির হ’ল মলয় বাতাস, ভয়ে ভয়ে পদাপয়ে তবু পথ ভুলে, গন্ধমদে ঢলি পড়ে এ ফুলে ও ফুলে । মনের আনন্দ আর না পারি রাখিতে, কোথা হতে ডাকে পিক রসাল শাখীতে, কুহু কুহু কুহু কুহু কুঞ্জে কুঞ্জে ফিরে, ক্রমে মিলাইয়া যায় কানন গভীরে । কোথা হইতে বাতাস উদাস হইয়া বাহির হইল, কোথায় সে যাইবে তাহার ঠিক নাই, অতি ভয়ে ভয়ে অতি ধীরে ধীরে তাহার পদক্ষেপ । কোকিল কোথা হইতে সহসা ডাকিয়া উঠিল এবং তাহার স্বর কোথায় যে মিলাইয়া গেল, তাহার ঠিকানা পাওয়া গেল না। এক দিকে উপভোগ করিতেছি আর এক দিকে তৃপ্তি হইতেছে না, কেন না উপভোগ্য সামগ্ৰীসকল আমাদের আয়ত্তের মধ্যে নহে ৷ এক দিকে মাত্র সীম, অন্য দিকে অসীম সমুদ্র । মনে হয়, যদি ঐ সমুদ্র পার হইতে পারি, তবে আমাদের বিশ্রামের রাজ্যে, সুথের রাজ্যে গিয়া পৌছাই । যদি জ্যোৎস্নাকে, যদি ফুলের গন্ধকে, যদি সঙ্গীতকে ও বসন্তের বাতাসকে পাই তবে আমাদের সুখের সীমা থাকে না। এই জন্যই যখন কবিরা জ্যোৎস্না, সঙ্গীত, পুষ্পের গন্ধকে শরীরবদ্ধ করেন,