পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অচলিত) দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/১১৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ఫిy রবীন্দ্র-রচনাবলী জন্মোপলক্ষে লিখিত কবিতা সাধারণতঃ লোকে যে ভাবে পড়িতে যায়, এই কবিতায় সহসা তাহাতে বাধা পায়। কচি মুখ, মিষ্ট হাসি, আধ-আধ-কথা ইহার বিষয় নহে । একটি ক্ষুদ্রকায়া সন্তোজাত শিশুর মধ্যে মিষ্ট ভাব, কচি ভাব ব্যতীত আরেকটি ভাব প্রচ্ছন্ন আছে, তাহা সকলের চোখে পড়ে না কিন্তু তাহা ভাবুক কবির চক্ষে পড়ে। সন্তোজাত শিশুর মধ্যে একটি অপরিসীম মহান ভাব, অপরিমেয় রহস্ত আবদ্ধ আছে, টেনিসন তাহাই প্রকাশ করিয়াছেন, সাধারণ পাঠকেরা তাহা বুঝিতে পারিতেছে না অথবা এই অচেনা ভাব হৃদয়ের মধ্যে আয়ত্ত করিতে পারিতেছে না। l Tennyson or of stfits “The Two Greetings" of HIER offs, ইহাতে র্তাহার সন্তানটিকে দুই ভাবে তিনি সম্ভাষণ করিয়াছেন। প্রথমতঃ, তাহার নিজের সন্তান বলিয়া ; দ্বিতীয়তঃ, তাহার আপনাকে তফাৎ করিয়া । এক, তাহার মৰ্ত্ত্য জীবন ধরিয়া, আর এক তাহার অস্তিত্ব ধরিয়া । একটিতে, তাহাকে আংশিক ভাবে দেখিয়া, আর একটিতে তাহাকে সৰ্ব্বতোভাবে দেখিয়া । তাহার সস্তানের মধ্যে তিনি দুইটি ভাগ দেখিতে পাইয়াছেন ; একটি ভাগকে তিনি স্নেহ করেন, আর একটি ভাগকে তিনি ভক্তি করেন। প্রথম সম্ভাষণ স্নেহের সম্ভাষণ, দ্বিতীয় সম্ভাষণ ভক্তির। তাহার কবিতার এই উভয় ভাগেই কবি অনেক দূর পর্য্যস্ত দৃষ্টি প্রসারিত করিয়াছেন ; এক দিগন্ত হইতে আর এক দিগন্তে দৃষ্টিপাত করিয়াছেন। প্রথম ভাগ। প্রথম, শিশু জন্মাইতেই তিনি ভাবিলেন, এ কোথা হইতে আসিল ? বৈদিক ঋষি-কবির মহা অন্ধকারের রাজ্য হইতে দিগন্তপ্রসারিত সমুদ্র-গর্ত হইতে তরুণ স্বৰ্য্যকে উঠিতে দেখিয়া যেমন সসন্ত্রমে জিজ্ঞাসা করিতেন, এ কোথা হইতে আসিল, তেমনি সসন্ত্রমে কবি জিজ্ঞাসা করিলেন, এ কোথা হইতে আসিল ? তিনি বর্তমান দেশকালের বন্ধন, সীমা অতিক্রম করিয়া কত দূরে, কত উচ্চে অতীতের মহা গঙ্গোত্রী-শিখরের দিকে ধাবমান হইলেন। কবির বিচরণের স্থান এমন আর কোথায় ? তিনি দেখিলেন, এই শিশুটি যে পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করিয়াছে, সেই পৃথিবীরই সহোদর। মহা সৌরজগতের যমজ ভ্রাতা। তিনি তাহাকে সম্ভাষণ করিয়া কহিলেন, “বংস আমার, মহা-সমুদ্র হইতে, যেখানে যাহা-কিছু-ছিল-র মধ্যে যাহাকিছু-হইবে ( অর্থাৎ অতীতের মধ্যে ভবিষ্যৎ, অপরিস্ফুটতার মধ্যে পরিস্ফুটতা ) কোটি কোটি যুগ যুগান্তর ধরিয়া অগণ্য আবৰ্ত্তমান জ্যোতিঃপুঞ্জের মহা-মরুর মধ্যে ঘূর্ণ্যমান হইতেছিল, তুমি সেইখান হইতে আসিতেছ। সেইখান হইতেই স্বৰ্য্য আসিয়াছে, পৃথিবী ও চন্দ্র আসিয়াছে, এবং তাহার অন্যান্য গ্রহ সহোদরগণ আসিয়াছে।” অতীতের সেই উষা-গর্ভে কবি প্রবেশ করিয়াছেন, দেখিলেন অপরিস্ফুট পৃথিবীর কারণপুঞ্জ যেখানে