পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অচলিত) দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/১৩৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


SS8 রবীন্দ্র-রচনাবলী সুখের লাগিয়া যে করে পিরীতি, দুখ যায় তার ঠাই ।” চণ্ডিদাস শতবাবু করিয়া বলিয়াছেন, “যার যত জালা তার ততই পিরীতি।” “সদা জালা যার, তবে সে তাহার মিলয়ে পিরীতিধন ।” “অধিক জালা যার তার অধিক পিরীতি।” ইত্যাদি । কিন্তু সেই চণ্ডিদাস আবার কহিয়াছেন, “সই পিরীতি না জানে যারা, এ তিন ভুবনে জনমে জনমে কি সুখ জানয়ে তারা ?” পিরীতি নামক যে জালা, পিরীতি নামক যে দুঃখ, এ দুঃখ যাহারা না জানিয়াছে, তাহারা পৃথিবীতে কি সুখ পাইয়াছে ? যখন রাধা কহিলেন, “বিধি যদি শুনিত, মরণ হইত, ঘুচিত সকল দুখ ।” তথন "চণ্ডিদাস কয়, এমতি হইলে পিরীতির কিবা সুখ !” ং দুখই যদি ঘুচিল তবে আর মুখ কিসের? এত গম্ভীর কথা বিদ্যাপতি কোথাও প্রকাশ করেন নাই । যখন মিলন হইল তখন বিদ্যাপতির রাধা কহিলেন, “দারুণ ঋতুপতি যত দুখ দেল, হরিমুখ হেরইতে সব দূর গেল । যতন্থ আছিল মঝু হৃদয়ক সাধ, সো সব পূরল পিয়া পরসাদ । রভস-আলিঙ্গনে পুলকিত ভেল, অধরহি পান বিরহ দূর গেল। চিরদিনে বিহি আজু পুরল আশ, হেরইতে নয়ানে নাহি অবকাশ । ভনহ বিদ্যাপতি আর নহ আধি, সমুচিত ঔখদে না রহে বেয়াধি ।” । চিকিৎসক চণ্ডিদাসের মতে বোধ করি ঔষধেও এ ব্যাধির উপশম হয় না, অথবা