পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অচলিত) দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/২৩০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


t * , ξεκι o g f. # * | རྩམ་སྐ ū- , , , , -ुक्लमु இ l கம் o ای * {

  • 、*

পক্ষে সংসারে বুন্তবদ্ধন বলপূর্বক বিচ্ছিন্ন করিয়া তাহার মঙ্গলরস হইতে আত্মাকে বঞ্চিত করিবে না। ঈশ্বর এই সংসারবৃক্ষের সহস্র তন্তুর মধ্য দিয়া আমাদের আত্মায় কল্যাণরস প্রেরণ করেন ; এই জীবধারয়িতা বিপুল বনস্পতি হইতে দম্ভভরে পৃথক্ হইয়া নিজের রস নিজে যোগাইবার ক্ষমতা আমাদের হস্তে নাই । ; -افتت কোন সত্যকে অস্বীকার করিয়া আমাদের নিস্তার নাই। মত্ততার বিহবলতায় মাতাল বিশ্বসংসারকে নগণ্য করিয়া যে অন্ধ আনন্দ উপভোগ করে সে আনন্দের শ্রেয়স্করতা নাই। বিদ্যা এবং অবিদ্যা, সৎ এবং অসৎ, ব্ৰহ্ম এবং সংসার উভয়কেই স্বীকার করিতে হইবে । দুঃখের হাত এড়াইবার জন্য কৰ্ত্তব্য বন্ধন ছেদন করিবার অভিপ্রায়ে সংসারকে একেবারেই “না” করিয়া দিয়া একাকী আনন্দ সম্ভোগে প্রবৃত্ত হওয়া এক জাতীয় প্রমত্ততা । সত্যের এক দিককে উপেক্ষা করিলে অপর দিকও অসত্য হইয়া উঠে। ঈশ্বরের আদেশ পালনকে যে অস্বীকার করে, সে মুখে যাহাই বলুক ঈশ্বরকে সম্পূর্ণ স্বীকার করে না। বরঞ্চ ঈশ্বরকে মুখে অস্বীকার করিয়া যে ব্যক্তি মতুন্যের প্রতি কৰ্ত্তব্যানুষ্ঠান করে সে কঠিন কৰ্ম্মের দ্বারা ঈশ্বরকে স্বীকার করিয়া থাকে। জ্ঞানে এবং ভোগে এবং কৰ্ম্মে ব্রহ্মকে স্বীকার করিলেই তাহাকে সম্পূর্ণভাবে স্বীকার করা হয়। সেইরূপ সৰ্ব্বাঙ্গীনভাবে ব্ৰহ্মকে উপলব্ধি করিবার একমাত্র স্থান এই সংসার—আমাদের এই কৰ্ম্মক্ষেত্র ; ইহাই আমাদের ধৰ্ম্মক্ষেত্র, ইহাই ব্রহ্মের মন্দির। এখানে জগৎমগুলের জ্ঞানে ঈশ্বরের জ্ঞান, জগৎসৌন্দর্য্যের ভোগে ঈশ্বরের ভোগ এবং জগৎসংসারের কৰ্ম্মে ঈশ্বরের কৰ্ম্ম জড়িত রহিয়াছে ;–সংসারের সেই জ্ঞান সৌন্দৰ্ঘ্য ও ক্রিয়াকে ব্রহ্মের দ্বারা বেষ্টিত করিয়া জানিলেই ব্রহ্মকে অন্তরতর করিয়া জানা যায় এবং সংসারযাত্রাও কল্যাণকর হইয়া উঠে। তখন ত্যাগ এবং ভোগের সামঞ্জস্য হয়, কাহারও ধনে লোভ থাকে না, অনর্থক বলিয়া জীবনের প্রতি উপেক্ষা জন্মে না, শতবর্ষ আয়ু যাপন করিলেও পরমায়ুর সার্থকতা উপলব্ধি হয়—এবং সেই অবস্থায় s -- যস্ত সৰ্ব্বাণি ভূতানি আত্মন্তেবায়ুপগুতি, সৰ্ব্বভূতেষু চাত্মানং ততো ন বিজুগুপাতে । । যিনি সমস্ত ভূতকে পরমাত্মার মধ্যে দেখেন, এবং সৰ্ব্ব ভূতের মধ্যে পরমাত্মাকে দেখেন তিনি কাহাকেও ঘৃণা করেন না । H গম্যস্থানের পক্ষে পথ যেমন একই কালে পরিহার্য্য এবং অবলম্বনীয় ব্ৰহ্মলাভের পক্ষে সংসার সেইরূপ । পথকে যেমন আমরা প্রতিপদে পরিত্যাগ করি এবং আশ্রয় করি, সংসারও সেইরূপ আমাদের প্রতিপদে বর্জনীয় এবং গ্রহণীয়। পথ নাই বলিয়া চক্ষু মুদিয়া পথপ্রাস্তে পড়িয়া স্বপ্ন দেখিলে গৃহ লাভ হয় না—এবং পথকেই শেষ লক্ষ্য