পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ঊনবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩২৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জাপানযাত্রী \bף ג অর্থই থাকত না, তা হলে বিজ্ঞানের অভিব্যক্তি কেবল একটা শব্দমাত্র হত। ব্যক্ত যদি অব্যক্তেরই প্রকাশ না হত তা হলে যা-কিছু আছে তা নিশ্চল হয়ে থাকত, কেবলই আরো-কিছুর দিকে আপনাকে নূতন করে তুলত না । এই আরো-কিছুর দিকেই সমস্ত জগতের আনন্দ কেন । এই অজানা আরো-কিছুর বঁাশি শুনেই সে কুল ত্যাগ করে কেন। ওই দিকে শূন্ত নয় ব’লেই, ওই দিকেই সে পূর্ণকে অনুভব করে বলেই। সেইজন্যই উপনিষদ বলেছেন— ভূমৈব স্থখং, ভূমাত্বে বিজিজ্ঞাসিতব্যঃ । সেইজন্তই তো স্বাক্টর এই লীলা দেখছি, আলো এগিয়ে চলেছে অন্ধকারের অকৃলে, অন্ধকার নেমে আসছে আলোর কৃলে। আলোর মন ভুলেছে কালোয়, কালোর মন ভুলেছে আলোয়। মানুষ যখন জগৎকে না-এর দিক থেকে দেখে, তখন তার রূপক একেবারে উলটে যায়। প্রকাশের একটা উলটাে পিঠ আছে, সে হচ্ছে প্রলয়। মৃত্যুর ভিতর দিয়ে ছাড়া প্রাণের বিকাশ হতেই পারে মা। হয়ে-ওঠার মধ্যে দুটো জিনিস থাকাই চাই— যাওয়া এবং হওয়া। হওয়াটাই হচ্ছে মুখ্য, যাওয়াটাই গৌণ । কিন্তু মানুষ যদি উলটো পিঠেই চোখ রাখে, বলে, সবই যাচ্ছে, কিছুই থাকছে না ; বলে, জগং বিনাশেরই প্রতিরূপ, সমস্তই মায়া, যা-কিছু দেখছি এ-সমস্তই না’; তা হলে এই প্রকাশের রূপকেই সে কালো করে, ভয়ংকর ক’রে দেখে ; তখন সে দেখে, এই কালো কোথাও এগচ্ছে না, কেবল বিনাশের বেশে নৃত্য করছে । আর, অনন্ত রয়েছেন আপনাতে আপনি নিলিপ্ত, এই কালিমা তার বুকের উপর মৃত্যুর ছায়ার মতো চঞ্চল হয়ে বেড়াচ্ছে, কিন্তু স্তন্ধকে স্পর্শ করতে পারছে না। এই কালো দৃশ্যত আছে, কিন্তু বস্তুত নেই ; আর যিনি কেবলমাত্র আছেন তিনি স্থির, ওই প্রলয়রূপিণী না-থাকা র্তাকে লেশমাত্র বিক্ষুব্ধ করে না। এখানে আলোর সঙ্গে কালোর সেই সম্বন্ধ, থাকার সঙ্গে না-থাকার যে সম্বন্ধ। কালোর সঙ্গে আলোর আনন্দের লীলা নেই ; এখানে যোগের অর্থ হচ্ছে প্রেমের যোগ নয়, জ্ঞানের যোগ । দুইয়ের যোগে এক নয়, একের মধ্যেই এক। মিলনে এক নয়, প্রলয়ে এক । কথাটাকে আর-একটু পরিষ্কার করবার চেষ্টা করি। একজন লোক ব্যাবসা করছে। সে লোক করছে কী । তার মূলধনকে অর্থাৎ পাওয়া-সম্পদকে সে মুনফা অর্থাৎ না-পাওয়া সম্পদের দিকে প্রেরণ করছে। পাওয়াসম্পদটা সীমাবদ্ধ ও ব্যক্ত, না-পাওয়া সম্পদটা অসীম ও অব্যক্ত। পাওয়া-সম্পদ সমস্ত বিপদ স্বীকার করে না-পাওয়া সম্পদের অভিসারে চলেছে। না-পাওয়া সম্পদ অদৃপ্ত ও জলন্ধ বটে কিন্তু তার বঁশি বাজছে, সেই বঁাশি ভূমার বঁাশি। ষে-বণিক সেই বঁাশি শোনে সে । জাপন ব্যাঙ্কে-জমানো কোম্পানি-কাগজের কুল ত্যাগ ক’রে সাগর গিরি