পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ঊনবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪০৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


যাত্রী * లిSt. বুঝতে পারলুম আমার কোনো একটি আগম্ভক কবিতা মনের মধ্যে এসে.পৌছবার আগেই তার ধুয়োটা এসে পৌচেছে। এইরকমের ধুয়ো অনেক সময়ে উড়ো বীজের মতো মনে এসে পড়ে, কিন্তু সব সময়ে তাকে এমন স্পষ্ট করে দেখতে পাওয়া बांध्र मां । t সমূত্রের দূর তীরে যে ধরণী আপনার নানা-রঙ আঁচলখনি বিছিয়ে দিয়ে পুবের দিকে মুখ করে একলা বসে আছে, ছবির মতো দেখতে পেলুম, তার কোলের উপর একখানি চিঠি পড়ল খসে কোন উপরের থেকে। সেই চিঠিখানি বুকের কাছে তুলে ধরে সে একমনে পড়তে বলে গেল ; তালতমালের নিবিড় বনচ্ছায়া পিছনে রইল এলিয়ে, দুয়ে-পড়া মাথার থেকে ছড়িয়ে-পড়া এলোচুল । আমার কবিতার ধুয়ো বলছে, প্রতিদিন সেই একই চিঠি। সেই একখানির বেশি আর দরকার নেই ; সেই ওর যথেষ্ট । সে এত বড়ো, তাই সে এত সরল । সেই একখানিতেই সব আকাশ এমন সহজে ভরে গেছে । . ধরণী পাঠ করছে কত যুগ থেকে। সেই পাঠ-করাটা আমি মনে মনে চেয়ে দেখছি। স্বরলোকের বাণী পৃথিবীর বুকের ভিতর দিয়ে, কণ্ঠের ভিতর দিয়ে, রূপে রূপে বিচিত্র হয়ে উঠল। বনে বনে হল গাছ, ফুলে ফুলে হল গন্ধ, প্রাণে প্রাণে হল নিশ্বসিত । একটি চিঠির সেই একটি মাত্র কথা, সেই আলো’। সেই সুন্দর, সেই ভীষণ ; সেই হাসির ঝিলিকে ঝিকিমিকি, সেই কাল্লার কাপনে ছলছল । * * এই চিঠি-পড়াটাই স্বষ্টির স্রোত - যে দিচ্ছে আর যে পাচ্ছে সেই দুজনের কথা এতে মিলেছে, সেই মিলনেই রূপের ঢেউ। সেই মিলনের জায়গাটা হচ্ছে বিচ্ছেদ । কেননা, দূর-নিকটের ভেদ না ঘটলে স্রোত বয় না, চিঠি চলে না । হাই-উৎসের মুখে কী-একটা কাও আছে, সে এক ধারাকে দুই-ধারায় ভাগ করে। বীজ ছিল নিতান্ত এক, তাকে দ্বিধা করে দিয়ে দুখানি কচি পাতা বেরল, তখনই সেই বীজ পেল তার বাণী ; মইলে সে বোবা, নইলে সে কুপণ, আপন ঐশ্বর্য আপনি ভোগ করতে জানে না।. জীব ছিল এক, বিদীর্ণ হয়ে স্ত্রী-পুরুষে সে দুই হয়ে গেল। তখনই তার সেই বিভাগের ফাকের মধ্যে বসল তার ডাকবিভাগ। ডাকের পর ডাক, তার অস্ত নেই। - বিচ্ছেদের এই ফাক একটা বড়ো সম্পদ ; এ নইলে সব চুপ, সব বন্ধ। এই ফাকটার বুকের ভিতর দিয়ে একটা সুপেক্ষার ব্যথা, একটা আকাঙ্ক্ষার টান, টনটন করে উঠল ; দিতে-চাওয়ার আর পেতে চাওয়ার উত্তর-প্রত্যুত্তর এ-পারে ও-পারে চালাচালি হতে লাগল । এতেই স্থলে উঠল স্বষ্টিতরঙ্গ, বিচলিত হল ঋতুপর্যায়, কখনো বা গ্রীষ্মের তপস্তা, কখনো বর্ষার প্লাবন, কখনো বা শীতের সংকোচ, কখনো বা বসন্তের দাক্ষিণ্য। একে Տ ՋիՀՆ 岬