পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ঊনবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪৬১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


যাত্রী 86 X অর্থাৎ, বিশ্বের যেখানে প্রকাশের ধারা, প্রকাশের লীলা, সেখানে যদি মনটাকে সম্পূর্ণ করে ধরা দিতে পার তা হলেই অস্তরের মধ্যে প্রকাশের বেগ সঞ্চারিত হয়— আলো থেকেই আলো জলে । দেখতে-পাওয়া মানে হচ্ছে প্রকাশকে পাওয়া । সংবাদ গ্রহণ করা এক জিনিস আর প্রকাশকে গ্রহণ করা আর-এক জিনিস। বিশ্বের প্রকাশকে মন দিয়ে গ্রহণ করাই হচ্ছে আর্টিস্টের সাধনা ; তাতেই প্রকাশের শক্তি সচেষ্ট হয়ে ওঠে, প্রকাশের আঙ্গিকপদ্ধতি তার সঙ্গে-সঙ্গেই অনেকটা আপনি এসে পড়ে, কতকটা শিক্ষা ও চর্চার দ্বারা নৈপুণ্যকে পাকিয়ে তোলা যায়। এইটুকু সাধনা করতে হবে, হাতিয়ারের বোঝা যেন হাতটার উপর দৌরাত্ম্য না করে, সহজ-স্রোতকে আটক করে রেখে কষ্টকল্পিত পন্থাটাই যেন বাহবা নেবার জন্তে ব্যগ্র হয়ে না ওঠে । বিশ্বপ্রবাহের প্রবাহিণীর মধ্যে গল। ডুবিয়ে তারই কলধ্বনি থেকে প্রকাশের মন্ত্র অস্তরের মধ্যে গ্রহণ করো, তারই ধারার ছন্দ তোমার রক্তের স্রোতে আপন তাল বেঁধে দেবে— এই হল গোড়াকার কথা ; এই হল বর্ষণ, তার পরে তোমার যদি আধার থাকে তো ভরে উঠবে ; এই হল আগুন, প্রদীপ বের করতে পার যদি তো শিখা জলবার জন্তে ভাবনা থাকবে না ।