পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ঊনবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪৯২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8ፃህ” রবীন্দ্র রচনাবলী দ্ব দিক থেকেই, রক্ষণে এবং দানে। তন্নষ্টং ষন্নদীয়তে। বুঝতে পারছি, তার হাতে আমাদের ভ্রমণের ইতিবৃত্ত লেশমাত্র ব্যর্থ হবে না, লুপ্ত হবে না। বাটাভিয়া থেকে জাহাজে করে বালিদ্বীপের দিকে রওনা হলুম। ঘণ্টা কয়েকের জন্যে স্বরবায়া শহরে আমাদের নামিয়ে নিলে। এও একটা আধুনিক শহর ; জাভার আঙ্গিক নয়, জাভার আনুষঙ্গিক। আলাদিনের প্রদীপের মন্ত্রে শহরটাকে নিউজীলণ্ডে নিয়ে গিয়ে বসিয়ে দিলেও খাপছাড়া হয় না । পার হয়ে এলেম বালিদ্বীপে ; দেখলেম ধরণীর চিরযৌবন ঘূতি। এখানে প্রাচীন শতাব্দী নবীন হয়ে আছে। এখানে মাটির উপর অন্নপূর্ণার পাদপীঠ স্যামল আস্তরণে দিগন্ত থেকে দিগন্তে বিস্তীর্ণ ; বনচ্ছায়ার অঙ্কলালিত লোকালয়গুলিতে সচ্ছল অবকাশ । সেই অবকাশ উৎসবে অনুষ্ঠানে নিত্যই পরিপূর্ণ। এই দ্বীপটুকুতে রেলগাড়ি নেই। রেলগাড়ি আধুনিক কালের বাহন। আধুনিক কালটি অত্যন্ত কৃপণ কাল, কোনো দিকে একটুমাত্র বাহুল্যের বরাদ্দ রাখতে চায় না। এই কালের মানুষ বলে : Time is money । তাই কালের বাজেখরচ বন্ধ করবার জন্যে রেলের এঞ্জিন ইফাতে হাফাতে, ধোয়া ওগরাতে ওগরাতে, মেদিনী কম্পমান করে দেশদেশাস্তরে ছুটোছুটি করে বেড়াচ্ছে । কিন্তু, এই বালিদ্বীপে বর্তমান কাল শত শত অতীত শতাব্দী জুড়ে এক হয়ে আছে। এখানে কালসংক্ষেপ করবার কোনো দরকার নেই। এখানে যা-কিছু আছে তা চিরদিনের ; যেমন একালের তেমনি সেকালের । ঋতুগুলি যেমন চলেছে নানা রঙের ফুল ফোটাতে ফোটাতে, নানা রসের ফল ফলাতে ফলাতে, এখানকার মানুষ বংশপরম্পরায় তেমনি চলেছে নানা রূপে বর্ণে গীতে নৃত্যে অনুষ্ঠানের ধারা বহন করে। রেলগাড়ি এখানে নেই কিন্তু আধুনিক কালের ভবঘুরে যারা এখানে আসে তাদের জন্তে আছে মোটরগাড়ি। অতি অল্পকালের মধ্যেই তাদের দেখাশুনো ভোগ-করা শেষ করা চাই। তারা আঁট-কালের মানুষ এসে পড়েছে অপর্যাপ্ত-কালের দেশে । এখানকার অরণ্য পর্বত লোকালয়ের মাঝখান দিয়ে ধুলো উড়িয়ে চলেছি আর কেবলই মনে হচ্ছে, এখানে পায়ে হেঁটে চলা উচিত। যেখানে পথের দুই ধারে ইমারত সেখানে মোটরের সঙ্গে সঙ্গে দুই চক্ষুকে দৌড় করালে খুব বেশি লোকসান হয় না ; কিন্তু পথের দু ধারে যেখানে রূপের মেলা সেখানকার নিমন্ত্রণ সারতে গেলে গরজের মোটরটাকে গারাজেই রেখে আসতে হয়। মনে নেই কি, শিকার করতে চুম্বাস্ত যখন রথ ছুটিয়েছিলেন তখন তার বেগ কত ; এই হচ্ছে ষাকে বলে প্রোগ্রেস, লক্ষ্যভেদ করবার জন্তে তাড়াহুড়ে । কিন্তু, তপোবনের সামনে এসে তাকে রথ ফেলে নামতে হল,