পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ঊনবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৭৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্র-রচনাবলী সে আজ বাহির হল দেহ লয়ে উন্মুক্ত আলোতে অন্ধকার হতে ; স্বদীর্ঘকালের পথে চলিল স্থদুর ভবিস্তুতে। ষে আনন্দ আজি মোর শিরায় শিরায় বহে গৃহের কোণের তাহা নহে। আমার হৃদয় আজি পান্থশালা, প্রাঙ্গণে হয়েছে দীপ জালা । হেথা কারে ডেকে আনিলাম অনাদিকালের পান্থ কিছুকাল করিবে বিশ্রাম । এ বিশ্বের যাত্রী যারা চলে অসীমের পানে আকাশে আকাশে নৃত্যগানে— আমার শিশুর মুখে কলকোলাহলে সে-যাত্রীর গান আমি শুনিব এ বক্ষতলে । অতিশয় নিকটের, দূরের তবু এ— আপন অস্তরে এল, আপনার নহে তো কভু এ । বন্ধনে দিয়েছে ধরা শুধু ছিন্ন করিতে বন্ধন ; আনন্দের ছন্দ টুটে উচ্ছ্বসিছে এ মোর ক্ৰন্দন । জননীর এ বেদনা, বিশ্বধরণীর সে যে আপনার ধন— না পারে রাখিতে নিজে, নিখিলেরে করে নিবেদন । ৮ আগস্ট ১৯৩২ বরানগর কাঠবিড়ালি কাঠবিড়ালির ছানান্থটি আঁচলতলায় ঢাকা, পায় সে কোমল করুণ হাতে পরশ স্থধামাখা ।