পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (চতুর্দশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩৮১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


eఆs ब्रदौड-ब्रक्रमांयलौ এইজন্তেই ভগবান যিশু বলেছেন, ষে-ব্যক্তি ধনী তার পক্ষে মুক্তি অত্যন্ত কঠিন । ধন এখানে শুধু টাকা নয়, জীবন যা-কিছুকেই দিনে দিনে আপনার বলে সঞ্চয় করে তোলে, যাকেই সে নিজের বলে মনে করে এবং নিজের দিকেই অঁাকড়ে রাখে—সে ধলই হ’ক জার খ্যাতিই হ’ক এমন কি পুণ্যই হ’ক । * এমন কি, ওই পুণ্যের সঞ্চয়টা কম ঠকায় না। ওর একটি ভাৰ আছে যেন ও যা নিচ্ছে তা সব ঈশ্বরকেই দিচ্ছে । লোকের হিত করছি, ত্যাগ করছি, কষ্ট স্বীকার করছি, অতএব আর ভাবনা নেই। আমার সমস্ত উৎসাহ ঈশ্বরের উৎসাহ, সমস্ত কর্ম ঈশ্বরের কর্ম । কিন্তু এর মধ্যে যে অনেকখানি নিজের দিকেই জমাচ্ছি সে খেয়ালমাত্র নেই । যেমন মনে করে আমাদের এই বিদ্যালয় । যেহেতু এটা মঙ্গলকাজ সেই হেতু এর যেন আর হিসেব দেখবার দরকার নেই, যেন এর সমস্তই ঈশ্বরের খাতাতেই জমা হচ্ছে। আমরা যে প্রতিদিন তহবিল ভাঙছি তার খোজও রাখি নে । এ বিদ্যালয় আমাদের বিদ্যালয়, এর সফলতা আমাদের সফলতা, এর দ্বারা আমরাই হিত করছি, এমনি করে এ বিদ্যালয় থেকে আমার দিকে কিছু কিছু করে জমা হচ্ছে । সেই সংগ্ৰহ আমার অবলম্বন হয়ে উঠছে, সেটা একটা বিষয় সম্পত্তির মতো হয়ে দাড়াচ্ছে । এই কারণে তার জন্যে রাগারগি টানাটানি হতে পারে, তার জন্তে মিথ্যে সাক্ষী সাজাতেও ইচ্ছা করে। পাছে কেউ কোনো ক্রটি ধরে ফেলে এই ভয় হয়—লোকের কাছে এর অনিন্দনীয়তা প্রমাণ করে তোলবার জন্তে একটু বিশেষভাবে ঢাকাঢুকি দেবার আগ্ৰহ জন্মে। কেননা এসব যে আমার অভ্যাস, আমার নেশা, আমার খাদ্য হয়ে উঠছে। এর থেকে যদি ঈশ্বর আমাকে একটু বঞ্চিত করতে চান আমার সমস্ত প্রাণ ব্যাকুল হয়ে ওঠে। প্রতিদিনের অভ্যাসে বিদ্যালয় থেকে এই যে-অংশটুকু নিজের ভাগেই সঞ্চয় করে তুলছি সেইটে সরিয়ে দাও দেখি, মনে হবে এর কোথাও যেন আর আশ্রয় পাচ্ছি নে। তখন ঈশ্বরকে আর আশ্রয় বলে মনে হবে না । ነ এইজন্তে সঞ্চয়ীর পক্ষেই বড়ো শক্ত সমস্যা। সে ওই সঞ্চয়কেই চরম আশ্রয় বলে একেবারে অভ্যাস করে বসে আছে, ঈশ্বরকে তাই সে চারিদিকে সত্য করে অনুভব করতে পারে না, শেষ পর্যন্তই সে নিজের সঞ্চয়কে অঁাকড়ে বসে থাকে। s অনেকদিন থেকে অনেক সঞ্চয় করে ষে বসেছি—সে-সমস্তর কিছু বাদ দিতে মন সরে না। সেইজন্তে মনের মধ্যে ষে চতুর হিসাবি কানে কলম গুজে বসে আছে সে কেবলই পরামর্শ দিচ্ছে—কিছু বাদ দেবার দরকার নেই, এরই মধ্যে কোনো রকম করে ঈশ্বরকে একটুখানি জায়গা করে দিলেই হবে। ' i