পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (চতুর্দশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৫২৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


*ांस्छिनिएकछत्र · & 92 বন্দী। সে-ব্যক্তি মুক্তস্বরূপকে কেমন করে পাবে ধিনি এমন প্রশস্ততম জায়গায় থাকেন যেখানে জগতের ছোটোবড়ো সকলেরই সমান স্থান। সেই জন্যে আমাদের দেশে এই একটি অত্যস্ত বড়ো কথা বলা হয়েছে যে, তাকে পেতে হলে সকলকেই পেতে হবে। সমস্তকে ত্যাগ করাই তাকে পাওয়ার পস্থা নয় । যুরোপের কোনো কোনো আধুনিক তত্ত্বজ্ঞানী, ধারা পরোক্ষে বা প্রত্যক্ষে উপনিষদের কাছেই বিশেষভাবে ঋণী, তারা সেই ঋণকে অস্বীকার করেই বলে থাকেন, ভারতবর্ষের ব্রহ্ম একটি অবচ্ছিন্ন ( abstract ) পদার্থ। অর্থাৎ জগতে যেখানে যা কিছু আছে সমস্তকে ত্যাগ করে বাদ দিয়েই সেই অনন্ত স্বরূপ—অর্থাৎ এক কথায় তিনি কোনোখানেই নেই, আছেন কেবল তত্ত্বজ্ঞানে । এ রকম কোনো দার্শনিক মতবাদ ভারতবর্ষে আছে কিনা সে-কথা আলোচনা করতে চাই নে কিন্তু এটি ভারতবর্ষের আসল কথা নয়। বিশ্বজগতের সমস্ত পদার্থের মধ্যেই অনন্ত স্বরূপকে উপলব্ধি করার সাধনা ভারতবর্ষে এতদূরে গেছে যে অস্ত দেশের তত্ত্বজ্ঞানীর সাহস করে ততদূরে যেতে পারেন না। ঈশাবাস্তমিদং সৰ্বং যং কিঞ্চ জগত্যাং জগৎ—জগতে যেখানে যা কিছু আছে সমস্তকেই ঈশ্বরকে দিয়ে আচ্ছন্ন করে দেখবে এই তো আমাদের প্রতি উপদেশ । যে দেবোহন্ত্রেী বোহপস্থ যে বিশ্বং ভূবনমাবিবেশ ৰ ওৰধিৰু ৰে৷ বনস্পতিৰু তস্মৈ দেবার নমোনমঃ । একেই কি বলে বিশ্ব থেকে বাদ দিয়ে তাকে দেখা ? তিনি যেমন অগ্নিতেও আছেন তেমনি জলেও আছেন, অগ্নি ও জলের কোনো বিরোধ তার মধ্যে নেই। ধান, গম, যব প্রভৃতি যে সমস্ত ওষধি কেবল কয়েক মাসের মতো পৃথিবীর উপর এসে আবার স্বপ্নের মতো মিলিয়ে যায় তার মধ্যেও সেই নিত্য সত্য যেমন আছেন, আবার যে বনস্পতি অমরতার প্রতিমাস্বরূপ সহস্ৰ বৎসর ধরে পৃথিবীকে ফল ও ছায়া দান করছে তার মধ্যেও তিনি তেমনিই আছেন। শুধু আছেন এইটুকুকে জানা নয়, নমোনমঃ ; তাকে নমস্কার, তাকে নমস্কার ; সর্বত্রই তাকে নমস্কার। আবার আমাদের ধ্যানের মন্ত্রেরও সেই একই লক্ষ্য—র্তাকে সমস্তর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা, ভূলোকের সঙ্গে নক্ষত্ৰলোকের, বাহিরের সঙ্গে অস্তরের। { আমাদের দেশে বুদ্ধ এসেও বলে গিয়েছেন যা কিছু উধ্যে আছে অধোতে