পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (চতুর্বিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১১৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্র-রচনাবলী ولمeلا যে-বিশ্ব মোর স্পষ্ট জানার শেষের সীমায় থাকে তারি মধ্যে, গুণী, তুমি অচিন সবার চেয়ে তোমার আপন রচন-অন্তরালে । , কখনো-বা মাসিকপত্রে চমক দিত প্ৰাণে অপূর্ব এক বাণীর ইশ্রজাল, কখনো-বা আলগা-মলাট বইয়ের দাগি পাতায় হাজারোবার-পড়া লেখায় পুরোনো কোন লাইন হানত বেদন বিদ্যুতেরই মতে, কখনো-বা বিকেলবেলায় ট্রামে চড়ে হঠাৎ মনে উঠত গুনগুনিয়ে অকারণে একটি তোমার শ্লোক । অচিন কবি, তোমার কথার ফঁাকে ফঁাকে দেখা যেত একটি ছায়াছবি— স্বপ্নঘোড়ায়-চড়া তুমি খুজতে বেরিয়েছ তোমার মানসীকে সীমাবিহীন তেপান্তরে, রাজপুত্ৰ তুমি যে রূপকথার। আয়নাখানার সামনে সেদিন চুল বাধবার বেলায় মনে যদি ক’রে থাকি সে রাজকন্ত। আমিই, হেলো না তাই ব'লে। তোমার সঙ্গে দেখা হবার আগে-ভাগেই ছুইয়েছিলে রুপোর কাঠি, জাগিয়েছিলে ঘুমন্ত এই প্রাণ। সেই বয়সে আমার মতো অনেক মেয়ে ঐ কথাটাই ভেবেছিল মনে ; তোমায় তার বারে বারে পত্র লিখেছিল, কেবল তোমার দেয় নি ঠিকানাট ।