পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (চতুর্বিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২২৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


$58 রবীন্দ্র-রচনাবলী জামার ক্ষত্ৰিশ্বভাৰ, মাঝে মাঝে ভুলে যাই ‘অক্রোধেন জয়েং ক্ৰোধ । ফল হল এই ষে অমিয়া পিসিমারই সদস্যদের মধ্য থেকে আর-একটি মেয়েকে এনে হাজির করলে— তার নাম প্রসন্ন। তাকে আমার পায়ের কাছে বসিয়ে দিয়ে বললে, “জাদার পায়ে ব্যথা করে, তুমি পা টিপে দাও।” সে যথোচিত অধ্যবসায়ের সঙ্গে আমার পা টিপতে লাগল। এই হতভাগ্য দাদা এখন কোন মুখে বলে যে, তার পায়ে কোনোরকম বিকার হয় নি। কেমন করে জানায় ষে, এমনতরো টেপাটেপি করে কেবলমাত্র তাকে অপদস্থ করা হচ্ছে। মনে মনে বুঝলেম, রোগশয্যায় রোগীর আর স্থান হবে না। এর চেয়ে ভালো নববঙ্গের তাইফোটা-সমিতির সভাপতি হওয়া। পাখার হাওয়া আস্তে আস্তে থেমে গেল। হরিমতি স্পষ্ট অনুভব করলে, অস্ত্রটা তারই উদ্দেশে। এ হচ্ছে প্রসন্নকে দিয়ে হরিমতিকে উৎখাত করা। কণ্টকেনৈব কণ্টকম্। একটু পরে পাখাটা মাটিতে রেখে সে উঠে দাড়াল। আমার পায়ের কাছে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করে জাণ্ডে জান্তে দুই পায়ে হাত বুলিয়ে চলে গেল। আবার আমাকে গীতা খুলতে হল। তবুও শ্লোকের ফাকে ফঁাকে দরজার ফাকের দিকে চেয়ে দেখি– কিন্তু সেই একটুখানি ছায়া আর-কোথাও দেখা গেল না। তার বদলে প্রসন্ন প্রায়ই আসে, প্রসরের দৃষ্টাস্তে আরও দুই-চারিটি মেয়ে অমিয়ার দেশবিশ্রত দেশভক্ত দাদার সেবা করবার জন্তে জড়ো হল । অমিয়া এমন ব্যবস্থা করে দিলে, যাতে পালা করে আমার নিত্যসেবা চলে। এদিকে শোনা গেল, হরিমতি একদিন কাউকে কিছু না বলে কলকাতা ছেড়ে তার পাড়াগায়ের বাড়িতে চলে গেছে। মাসের বারোই তারিখে সম্পাদক-বন্ধু এসে বললেন– “একি ব্যাপার। ঠাট্টা নাকি । এই কি তোমার কঠোর অভিজ্ঞতা।” আমি হেসে বললেম, “পুজোর বাজারে চলবে না কি।” “একেবারেই না । এটা তো অত্যন্তই হালকা-রকমের জিনিস ” সম্পাদকের দোষ নেই। জেলবাসের পর থেকে আমার অগ্রজল অন্তঃশীলা বইছে । লোকে বাইরে থেকে জামাকে খুব হালকা-প্রকৃতির লোক মনে করে। গল্পটা আমাকে ফেরত দিয়ে গেল। ঠিক সেই মুহূর্তে এল অনিল। বললে, “মুখে বলতে পারব না, এই চিঠিটা পড়ুন।” চিঠিতে অমিয়াকে, তার দেবীকে, যুগলক্ষ্মীকে বিবাহ করবার ইচ্ছে জানিয়েছে ; এ-কথাও বলেছে, অমিয়ার অসম্মতি নেই। তখন অমিয়ার জন্মবৃত্তান্ত তাকে বলতে হল । সহজে বলতেম না ; কিন্তু