পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (চতুর্বিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২৮৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ՀԵ-օ রবীন্দ্র-রচনাবলী সে নয়,যে-মাহব কেবলমাত্র বিশেষ প্রয়োজনের মাপে মাহষ— সেই তোকৃত্রিম মাতুষ । ফোটোগ্রাফের ক্যামেরাকে কৃত্রিম চোখ বলিতে পারি। এই ক্যামেরা খুব স্পষ্ট করিয়া দেখে কিন্তু সম্পূর্ণ করিয়া দেখে না, তাহা চলতিকে দেখে না, যাহাকে দেখা যায় না তাহাকে দেখে না। এইজন্ত বলা যায় যে, ক্যামেরা অন্ধ হইয়া দেখে । সজীব চোখের পিছনে সমগ্র মাতুয় আছে বলিয়া তাহার দেখা কোনো আংশিক প্রয়োজনের পক্ষে যত অসম্পূর্ণ হোক মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পূর্ণ ব্যবহারক্ষেত্রে তাহাই সম্পূর্ণতর। বিধাতার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ যে তিনি চোখের বদলে আমাদিগকে ক্যামেরা দেন নাই। কিন্তু হায় ভারতশাসনে তিনি এ কী দিলেন । যে বড়ো-ইংরেজ যোলো-আনা মানুষ, আমাদের ভাগ্যে সে থাকে সমূত্রের ওপারে, আর এপারে পাড়ি দিতেই প্রয়োজনের র্কাচিকলের মধ্যে আপনার বারো-আনা ছাটিয়া সে এতটুকু ছোটো হইয়৷ বাহির হইয়া আসে। সেই এতটুকুর পরিমাণ কেবল সেইটুকু যাতে বাড়তির ভাগ কিছুই নাই, অর্থাৎ মানুষের যেটা স্বাদ গন্ধ লাবণ্য, যেটা তার কমনীয়তা ও নমনীয়ত, জীবনের স্বাভাবিক নিয়মে যাহা নিজেও বাড়িতে থাকে অন্তকেও বাড়াইতে থাকে সে সমস্তই কি বাদ পড়িল । এই ছোটোখাটো ছাটাছোট। ইংরেজ কোনোমতেই বুঝিতে পারে না এমন অত্যন্ত দামী ও নিখুত ক্যামেরা পাইয়াও সজীব চোখের চাহনির জন্ত ভিতরে-ভিতরে আমাদের এত তৃষ্ণা কেন । বোঝে না তার কারণ, কলে ছাট পড়িবার সময় ইহাদের কল্পনাবৃত্তিটা যে বাদ পড়িয়াছে। ইংলণ্ডের সরকারী অনাথআশ্রমে যারা থাকে তাদের মন কেন পালাই-পালাই এবং প্রাণ কেন ত্ৰাহি-ত্রাহি করে। কেননা ঐ ওআর্ক-হাউস সম্পূর্ণ ঘরও নয়, সম্পূর্ণ বাহিরও নয়। উহ আত্মীয়তাও দেয় না, মুক্তিও দেয় না। উহ। কড়ায় গণ্ডায় হিসাব করিয়া কেবলমাত্র আশ্রয় দেয়। আশ্রয়টা অত্যন্ত দরকারী বটে, কিন্তু মানুষ যেহেতু মানুষ সেইজন্য সে ঘরকে চায়, অর্থাৎ দরকারের সঙ্গে বহুল পরিমাণে অ-দরকারকে না পাইলে সে বঁাচে না। নহিলে সে অপমানিত হয়, সুবিধ-সুযোগ ফেলিয়াও সে পালাইতে চেষ্টা করে। অনাথ-আশ্রমের কড়া কাৰ্যাধ্যক্ষ এই অকৃতজ্ঞতায় বিস্মিত ও ক্রুদ্ধ হয় এবং কেবল তার ক্রোধের দ্বারাই দুঃখকে দমন করিবার জন্ত সে দণ্ডধারণ করে । কেননা, এই কাৰ্যাধ্যক্ষ পুরা মানুষ নয়, ইহার পুরা দৃষ্টি নাই, এই ছোটো মানুষ মনে করে দুর্ভাগা ব্যক্তি কেবলমাত্র আশ্রয়ের শান্তিটুকুর জন্ত মুক্তির অসীম আশায় ব্যাকুল আপন আত্মাকে চিরদিনের মতোই বণিকের ঘরে বাধা রাখিতে পারে। বড়ে-ইংরেজ অব্যবহিতভাবে ভারতবর্ষকে স্পর্শ করে না— সে মাঝখানে রাখিয়াছে ছোটো-ইংরেজকে। এইজন্তু বড়ো-ইংরেজ আমাদের কাছে সাহিত্য