পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (চতুর্বিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩৭৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


૭૧૦ রবীন্দ্র-রচনাবলী উদ্ধারের মহৎ কাজে সে যে নিজেকে নিবেদন করেছিল এইজম্ভেই মানবদেবতা তার পিঠে আশীর্বাদরেখা চিহ্নিত করেছিলেন। প্রত্যেক মহাজাতির পিঠে আমরা সেই চিহ্ন দেখতে চাই, সেই চিহের দ্বারাই সে অাপম কোটরকোণের অতীত নিত্যলোকে স্থান লাভ করে। ጙ ভারতবর্ষের যে বাণী আমরা পাই সে বাণী ষে শুধু উপনিষদের শ্লোকের মধ্যে নিবন্ধ তা নয়। ভারতবর্ষ বিশ্বের নিকট ষে মহত্তম বাণী প্রচার করেছে তা ত্যাগের দ্বারা, দুঃখের দ্বারা, মৈত্রীর দ্বারা, আত্মার দ্বারা ; সৈন্ত দিয়ে, অন্ত্র দিয়ে, পীড়ন লুণ্ঠন দিয়ে নয়। গৌরবের সঙ্গে দস্থ্যবৃত্তির কাহিনীকে বড়ো বড়ো অক্ষরে আপন ইতিহাসের পৃষ্ঠায় সে অঙ্কিত করে নি। আমাদের দেশেও দিগৃবিজয়ের পতাকা হাতে পরজাতির দেশ জয় করবার কীর্তি হয়তো সেকালে অনেকে লাভ করে থাকবেন, কিন্তু ভারতবর্ষ অন্ত দেশের মতো ঐতিহাসিক জপমালায় ভক্তির সঙ্গে তাদের নাম স্মরণ করে না। বীর্যবান দস্থ্যদের নাম ভারতবর্ষের পুরাণে খ্যাত হয় নি। অহংকেই যে মানুষ পরম ও চরম সত্য বলে জানে সেই বিনাশ পায় ; সকল দুঃখ সকল পাপের মূল এই অহমিকায়। বিশ্বের প্রতি মৈত্রীভাবনাতেই এই অহংভাব লুপ্ত হয়, এই সত্যটি আত্মার আলোক। এই আলোকদীপ্তি ভারতবর্ষ নিজের মধ্যে বন্ধ রাখতে পারে নি। এই আলোকের আভাতেই ভারত আপন ভূখণ্ডসীমার বাইরে আপনাকে প্রকাশ করেছিল । সুতরাং এইটিই হচ্ছে ভারতের সত্য পরিচয় । এই পরিচয়ের আলোকেই যদি নিজের পরিচয়কে উজ্জল করতে পারি তা হলেই আমরা ধন্ত । আমরা যে ভারতবর্ষে জন্মলাভ করেছি সে এই মুক্তিমন্ত্রের ভারতবর্ষে, সে এই তপস্বীর ভারতবর্ষে । এই কথাটি যদি ধ্রুব করে মনে রাখতে পারি তা হলে আমাদের । সকল কর্ম বিশুদ্ধ হবে, তা হলে আমরা নিজেকে বিশেষ করে ভারতবাসী বলতে পারব, সেজন্ত আমাদের নতুন করে ধ্বজ নির্মাণ করতে হবে না। ক্ষুধা হলেই মানুষ অন্নের স্বপ্ন দেখে। আজকাল আমাদের দেশে পোলিটিকাল আত্মপরিচয়ের ক্ষুধাটাই নানা কারণে সবচেয়ে প্রবল হয়ে উঠেছে। এইজন্তে নিরস্তর তারই ভোজটাই স্বপ্নে দেখছি। তার চেয়ে বড়ো কথাগুলিকেও অপ্রাসঙ্গিক বলে উপেক্ষা করবার তর্জন আজকাল প্রায় শোনা যায়। কিন্তু এই পোলিটিকাল আত্মপরিচয়ের ধারা খুজতে গিয়ে বিদেশী ইতিহাসে গিয়ে পৌঁছতে হয়। সেই ব্যগ্রতার তাড়নায় আপনাকে স্বপ্নে-গড়া ম্যাসিলি, স্বপ্নে-গড় গারিবাঙ্গডি, কাল্পনিক ওয়াশিংটন বলে ভাবন করতে হয়। অর্থতত্বেও তাই ; এখানে