পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩১৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চোখের বালি । Sసె& “বাবা, তোমার জন্য ভালো পাত্রী দেখিয়া দিতেছি, এই কন্যাটি ছাড়িয়া দিতে হইবে, এ তোমার যোগ্যই নয়।” বিহারী কহিল, “না মা, সে হয় না । সে সমস্তই ঠিক হইয়া গেছে ।” তখন রাজলক্ষ্মী অন্নপূর্ণাকে গিয়া কহিলেন, “আমার মাথা খাও মেজবউ, তোমার পায়ে ধরি, তুমি বিহারীকে বলিলেই সব ঠিক হইবে।” অন্নপূর্ণ বিহারীকে কহিলেন, “বিহারী, তোমাকে বলিতে আমার মুখ সরিতেছে না, কিন্তু কী করি বলো। আশা তোমার হাতে পড়িলেই আমি বড়ো নিশ্চিন্তু হইতাম, কিন্তু সব তো জানিতেছই—” বিহারী। বুঝিয়াছি, কাকী। তুমি যেমন আদেশ করিবে, তাহাই হইবে । কিন্তু আমাকে আর কখনো কাহারো সঙ্গে বিবাহের জন্য অকুরোধ করিয়ো না । বলিয়া বিহারী চলিয়া গেল। অন্নপূর্ণার চক্ষু জলে ভরিয়া উঠিল, মহেন্দ্রের অকল্যাণ-আশঙ্কায় মুছিয়া ফেলিলেন। বার বার মনকে বুঝাইলেন—যাহা হইল, তাহা ভালোই হইল। এইরূপে রাজলক্ষ্মী, অন্নপূর্ণ এবং মহেক্সের মধ্যে নিষ্ঠুর নিগৃঢ় নীরব ঘাতপ্রতিঘাত চলিতে চলিতে বিবাহের দিন সমাগত হইল। বাতি উজ্জল হইয়া জলিল, শানাই মধুর হইয়া বাজিল, মিষ্টারে মিষ্টের ভাগ লেশমাত্র কম পড়িল না। আশা সজ্জিতসুন্দরদেহে, লজ্জিতমুগ্ধমুখে আপন নূতন সংসারে প্রথম পদার্পণ করিল ; তাহার এই কুলায়ের মধ্যে কোথাও যে কোনো কণ্টক আছে, তাহা তাহার কম্পির্ত-কোমল হৃদয় অনুভব করিল না ; বরঞ্চ জগতে তাহার একমাত্র মাতৃস্থানীয়া অন্নপূর্ণার কাছে আসিতেছে বলিয়া আশ্বাসে ও আনন্দে তাহার সর্বপ্রকার ভয় সংশয় मूत्र श्ब्र शज । বিবাহের পর রাজলক্ষ্মী মহেন্দ্রকে ডাকিয়া কহিলেন, “আমি বলি, এখন বউমা কিছুদিন তার জেঠার বাড়ি গিয়াই থাকুন।” মহেন্দ্র জিজ্ঞাসা করিল, “কেন মা ।” মা কহিলেন, "এবারে তোমার একজামিন আছে, পড়াশুনার ব্যাঘাত হইতে পারে ।” মহেন্দ্র। আমি কি ছেলেমানুষ। নিজের ভালোমন্দ বুঝে চলিতে পারি না ? রাজলক্ষ্মী। তা হোক না বাপু, আর-একটা বৎসর বই তো নয় । মহেন্দ্র কছিল, “বউয়ের বাপ-মা যদি কেহ থাকিতেন, তাহীদের কাছে পাঠাইতে আপত্তি ছিল না—কিন্তু জেঠার বাড়িতে আমি উহাকে রাখিতে পারিব না।”