পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৫৬৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


磁粉や রবীন্দ্র-রচনাবলী নিজের শক্তিকে আপনারা অবিশ্বাস করিবেন না, আপনারা নিশ্চয় জানিবেন-- সময় উপস্থিত হইয়াছে। নিশ্চয় জানিবেন, ভারতবর্ষের মধ্যে একটি বধিয়া তুলিবার ধর্ম চিরদিন বিরাজ করিয়াছে। নানা প্রতিকুল ব্যাপারের মধ্যে পড়িয়াও ভারতবর্ষ বরাবর একটা ব্যবস্থা করিয়া তুলিয়াছে, তাই আজও রক্ষা পাইয়াছে । এই ভারতবর্ষের উপরে আমি বিশ্বাসস্থাপন করি । এই ভারতবর্ষ এখনই এই মুহুর্তেই ধীরে ধীরে নূতন কালের সহিত আপনার পুরাতনের আশ্চর্য একটি সামঞ্জস্য গড়িয়া তুলিতেছে । আমরা প্রত্যেকে যেন সজ্ঞানভাবে ইহাতে যোগ দিতে পারি,— জড়ত্বের বশে বা বিদ্রোহের তাড়নায় প্রতিক্ষণে ইহার প্রতিকুলত না করি । বাহিরের সহিত হিন্দুসমাজের সংঘাত এই নূতন নহে। ভারতবর্ষে প্রবেশ করিয়াই আর্যগণের সহিত এখানকার আদিম অধিবাসীদের তুমুল বিরোধ বাধিয়াছিল । এই বিরোধে আর্যগণ জয়ী হইলেন, কিন্তু অনার্যেরা আদিম অস্টে লিয়ান বা আমেরিকগণের মতো উৎসাদিত হইল না ; তাহারা আর্ষ উপনিবেশ হইতে বহিষ্কৃত হইল না ; তাহারা আপনাদের আচারবিচারের সমস্ত পার্থক্যসত্ত্বেও একটি সমাজতন্ত্রের মধ্যে স্থান পাইল । তাহাদিগকে লইয়া আর্যসমাজ বিচিত্র झझेल ! এই সমাজ আর-একবার সুদীর্ঘকাল বিশ্লিষ্ট হইয়া গিয়াছিল । বৌদ্ধপ্রভাবের সময় বৌদ্ধধর্মের আকর্ষণে ভারতবর্ষীয়ের সহিত বহুতর পরদেশীয়ের ঘনিষ্ঠ সংস্রব ঘটিয়াছিল । বিরোধের সংস্রবের চেয়ে এই মিলনের সংস্রব আরো গুরুতর । বিরোধে আত্মরক্ষার চেষ্টা বরাবর জাগ্রত থাকে— মিলনের অসতর্ক অবস্থায় অতি সহজেই সমস্ত একাকার হইয়া যায়। বৌদ্ধ-ভারতবর্ষে তাহাই ঘটিয়াছিল । সেই এশিয়াব্যাপী ধর্মপ্লাবনের সময় নানা জাতির আচারব্যবহার ক্রিয়াকম ভাসিয়া আসিয়াছিল, কেহ ঠেকায় নাই । কিন্তু এই অতিবৃহৎ উচ্ছ স্বলতার মধ্যেও ব্যবস্থাস্থাপনের প্রতিভা ভারতবর্ষকে ত্যাগ করিল না । যাহা-কিছু ঘরের এবং যাহা-কিছু অভ্যাগত, সমস্তকে একত্র করিয়া লইয়া পুনর্বার ভারতবর্ষ আপনার সমাজ স্থবিহিত করিয়া গড়িয়া তুলিল ; পূর্বাপেক্ষ আরো বিচিত্র হইয়া উঠিল । কিন্তু এই বিপুল বৈচিত্র্যের মধ্যে আপনার একটি ঐক্য সর্বত্রই সে গ্রথিত করিয়া দিয়াছে । আজ অনেকেই জিজ্ঞাসা করেন, নানা স্বতোবিরোধ আত্মখণ্ডন-সংকুল এই হিন্দুধর্মের এই হিন্দুসমাজের ঐক্যট। কোনখানে । স্বম্পষ্ট উত্তর দেওয়া কঠিন। স্ববৃহৎ পরিধির কেন্দ্র খুজিয়া পাওয়াও তেমনি কঠিন,— কিন্তু কেন্দ্র তাহার আছেই। ছোটাে গোলকের গোলত্ব বুঝিতে