পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ত্রয়োবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২৪৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ు 8ఆ রবীন্দ্র-রচনাবলী তোমাকে গাছের তলায় দেখিতাম, সে যে বেশ ছিল ।” বুঝিলাম, গাছতলায় এ আমাকে অনেকদিন লক্ষ্য করিয়াছে কিন্তু আমি ইহাকে দেখি নাই। সদির উপক্রম হওয়াতে কয়েকদিন পথে ও বাগানে বেড়ানো বন্ধ করিয়া ছাদের উপরেই সন্ধ্যাকাশের সঙ্গে মোকাবিলা করিয়া থাকি ; তাই কিছুদিন সে আমাকে দেখিতে পায় নাই । 曦 একটুক্ষণ থামিয়া সে বলিল, “গেীর, আমাকে কিছু-একটা উপদেশ দাও।” আমি মুশকিলে পড়িলাম। বলিলাম, “উপদেশ দিতে পারি না, নিতেও পারি না। চোখ মেলিয়া চুপ করিয়া যাহা পাই তাহা লইয়াই আমার কারবার । এই যে তোমাকে দেখিতেছি, আমার দেখাও হইতেছে শোনাও হইতেছে।” ८दांडेशैौ आद्रि भूनि श्ब्र'cशोद्र ८ञो ब्र' वजिब्रा उठेिन । कश्लि, “डशवाटनद्र ८डा শুধু রসনা নয়, তিনি ষে সর্বাঙ্গ দিয়া কথা কন।” আমি বলিলাম, "চুপ করিলেই সর্বাঙ্গ দিয়া তার সেই সর্বাঙ্গের কথা শোনা যায়। তাই শুনিতেই শহর ছাড়িয়া এখানে আসি ।” বোষ্টমী কহিল, “সেটা আমি বুঝিয়াছি, তাই তো তোমার কাছে আসিয়া বসিলাম।” যাইবার সময় সে আমার পায়ের ধুলা লইতে গিয়া, দেখিলাম, আমার মোজাতে হাত ঠেকিয় তাহার বড়ো বাধা বোধ হইল । পরের দিন ভোরে স্বর্য উঠিবার পূর্বে আমি ছাদে আসিয়া বসিয়াছি। দক্ষিণে বাগানের ঝাউগাছগুলার মাথার উপর দিয়া একেবারে দিকসীমা পর্যন্ত মাঠ ধুধু করিতেছে। পূর্বদিকে বাশবনে-ঘেরা গ্রামের পাশে আথের খেতের প্রান্ত দিয়া প্রতিদিন আমার সামনে স্বৰ্ষ উঠে। গ্রামের রাস্তাটা গাছের ঘন ছায়ার ভিতর হইতে হঠাৎ বাহির হইয়া খোলা মাঠের মাঝখান দিয়া বাকিয়া বহুদূরের গ্রামগুলির কাজ সারিতে চলিয়াছে। স্বর্ধ উঠিয়াছে কি না জানি না। একখানি শুভ্র কুয়াশার চাদর বিধবার ঘোমটার মতো গ্রামের গাছগুলির উপর টানা রহিয়াছে। দেখিতে পাইলাম, বোষ্টমী সেই ভোরের ঝাপস। আলোর ভিতর দিয়া একটি সচল কুয়াশার মূর্তির মতো করতাল বাজাইয়া হরিনাম গান করিতে করিতে সেই পুব দিকের গ্রামের সমুখ দিয়া চলিয়াছে। ভাঙা চোখের পাতার মতো এক সময়ে কুয়াশাটা উঠিয়া গেল এবং ঐ-সমস্ত মাঠের ও ঘরের নানা কাজকর্মের মাঝখানে শীতের রৌদ্রটি গ্রামের ঠাকুরদাদার মতো আসিয়া বেশ করিয়া জমিয়া বসিল । আমি তখন সম্পাদকের পেয়াদা বিদায় করিবার জন্য লিখিবার টেবিলে আসিয়া