পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ত্রয়োবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩৪৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


"එංව8 রবীন্দ্র-রচনাবলী পেলেন ; আমি কৌমার্যের লাস্ট, বেঞ্চিতে বসে শূন্য সংসারের কড়িকাঠ গণনা করে কাটিয়ে দিলুম। আমি চোদ্দ বছর বয়সে এনট্রেন্স পাস করেছিলুম। তখন বিবাহ কিম্বা এন্‌ট্রেন্স পরীক্ষায় বয়সবিচার ছিল না। আমি কোনোদিন পড়ার বই গিলি নি, সেই জন্যে শারীরিক বা মানসিক অজীর্ণ রোগে আমাকে ভুগতে হয় নি। ইদুর যেমন দাত বসাবার জিনিস পেলেই সেটাকে কেটে-কুটে ফেলে, তা সেটা খাদ্যই হোক আর অখাদ্যই হোক, শিশুকাল থেকেই তেমনি ছাপার বই দেখলেই সেটা পড়ে ফেলা আমার স্বভাব ছিল। সংসারে পড়ার বইয়ের চেয়ে না-পড়ার বইয়ের সংখ্যা ঢের বেশি, এইজন্যে আমার পুথির সৌরজগতে স্কুল-পাঠ্য পৃথিবীর চেয়ে বেস্কুল-পাঠ্য স্বর্য চোদ লক্ষগুণে বড়ো ছিল । তবু, আমার সংস্কৃত-পণ্ডিতমশায়ের নিদারুণ ভবিষ্যদবাণী সত্বেও, আমি পরীক্ষায় পাস করেছিলুম। আমার বাবা ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিষ্ট্রেট। তখন আমরা ছিলেম সাতক্ষীরায় কিম্বা জাহানাবাদে কিম্ব ঐরকম কোনো-একটা জায়গায় । গোড়ীতেই ব’লে রাখা ভালো, দেশ কাল এবং পাত্র সম্বন্ধে আমার এই ইতিহাসে যে-কোনো স্পষ্ট উল্লেখ থাকবে তার সবগুলোই মুম্পষ্ট মিথ্যা ; যাদের রসবোধের চেয়ে কৌতুহল বেশি র্তাদের ঠকতে হবে । বাবা তথন তদন্তে বেরিয়েছিলেন । মায়ের ছিল কী-একটা ব্ৰত ; দক্ষিণ এবং ভোজনব্যবস্থার জন্য ব্রাহ্মণ র্তার দরকার। এইরকম পারমার্থিক প্রয়োজনে আমাদের পণ্ডিতমশায় ছিলেন মায়ের প্রধান সহায় । এইজন্য মা তার কাছে বিশেষ কৃতজ্ঞ ছিলেন, যদিচ বাবার মনের ভাব ছিল ঠিক তার উলটো । আজ আছারাস্তে দীনদক্ষিণার যে ব্যবস্থা হল তার মধ্যে আমিও তালিকাভূক্ত হলুম। সে পক্ষে যে-আলোচনা হয়েছিল তার মর্মটা এই— আমার তো কলকাতায় কলেজে যাবার সময় হল । এমন অবস্থায় পুত্রবিচ্ছেদদুঃখ দূর করবার জন্যে একট। সদুপায় অবলম্বন করা কর্তব্য । যদি একটি শিশুবধু মায়ের কোলের কাছে থাকে তবে তাকে মানুষ ক’রে, যত্ন ক'রে তার দিন কাটতে পারে । পণ্ডিতমশায়ের মেয়ে কালীশ্বরী এই কাজের পক্ষে উপযুক্ত— কারণ, সে শিশুও বটে, সুশীলাও বটে, আর কুলশাস্ত্রের গণিতে তার সঙ্গে আমার অঙ্কে অঙ্কে মিল । তা ছাড়া ব্রাহ্মণের কন্যাদায়মোচনের পারমার্থিক ফলও লোভের সামগ্ৰী । মায়ের মন বিচলিত হল । মেয়েটিকে একবার দেখা কর্তব্য এমন আভাস দেবীমাত্র পণ্ডিতমশায় বললেন, তার 'পরিবার’ কাল রাত্রেই মেয়েটিকে নিয়ে বাসায় এসে পৌচেছেন। মায়ের পছন্দ হতে দেরি হল না ; কেননা, রুচির সঙ্গে পুণ্যের