পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ত্রয়োবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩৪৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্র-রচনাবলী سCD S)ty\ স্বতরাং ফিরে এসেই বাইরে থেকেই বাবা শুভসংবাদ শুনতে পেলেন । তার পরে মায়ের কান্না এবং অনাহার, বাড়ির সকলের ভীতিবিহবলতা, চাকরদের আকারণ জরিমান, এজ লাসে প্রবলবেগে মামলা ডিসমিস এবং প্রচণ্ড তেজে শাস্তিদান, পণ্ডিতমশায়ের পদচ্যুতি এবং রাঙতা-জড়ানো বেণী-সহ কাশীশ্বরীকে নিয়ে তার অন্তৰ্ধান ; এবং ছুটি ফুরোবার পূর্বেই মাতৃসঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন করে আমাকে সবলে কলকাতায় নির্বাসন। আমার মনটা ফাট। ফুটবলের মতো চুপসে গেল— আকাশে আকাশে, হাওয়ার উপরে তার লাফালাফি একেবারে বন্ধ হল । আমার পরিণয়ের পথে গোড়াতেই এই বিস্ত্র -- তার পরে আমার প্রতি বারেবারেই প্রজাপতির ব্যর্থ-পক্ষপাত ঘটেছে। তার বিস্তারিত বিবরণ দিতে ইচ্ছা করি নে — আমার এই বিফলতার ইতিহাসের সংক্ষিপ্ত নোট দুটো-একটা রেখে যাব। বিশ বছর বয়সের পূর্বেই আমি পুরা দমে এম.এ পরীক্ষা পাস করে চোখে চশমা পরে এবং গোফের রেখাটাকে তা দেবার যোগ্য করে বেরিয়ে এসেছি। বাবা তখন রামপুরহাট কিম্ব নোয়াখালি কিম্বা বারাসত কিম্ব ঐরকম কোনো-একটা জায়গায়। এতদিন তো শব্দসাগর মন্থন করে ডিগ্রিরত্ব পাওয়া গেল, এবার অর্থসাগর-মন্থনের পালা । বাবা র্তার বড়ে বড়ো পেট্রন সাহেবদের স্মরণ করতে গিয়ে দেখলেন, তার সব-চেয়ে বড়ো সহায় যিনি তিনি পরলোকে, তার চেয়ে ধিনি কিছু কম তিনি পেন্সন নিয়ে বিলেতে, যিনি আর ও কমজোরী তিনি পাঞ্জাবে বদলি হয়েছেন, আর যিনি বাংলাদেশে বাকি আছেন তিনি অধিকাংশ উমেদারকেই উপক্রমণিকায় আশ্বাস দেন কিন্তু উপসংহারে সেট সংহরণ করেন। আমার পিতামহ যখন ডিপুটি ছিলেন তখন মুরুব্বির বাজার এমন কষা ছিল না তাই তখন চাকরি থেকে পেনসন এবং পেনসন থেকে চাকরি একই বংশে খেয়া-পারাপারের মতো চলত। এখন দিন পারাপ, তাই বাবা যখন উদবিগ্ন হয়ে ভাবছিলেন যে, তার বংশধর গভৰ্মেণ্ট আপিসের উচ্চ খাচী থেকে সওদাগরি আপিসের নিম্ন দাড়ে অবতরণ করবে কি না, এমন সময় এক ধনী ব্রাহ্মণের একমাত্র কন্যা র্তার নোটিশে এল। ব্রাহ্মণটি কনট্র্যাক্টর, তার অর্থাগমের পথটি প্রকাগু ভূতলের চেয়ে অদৃশু রসাতলের দিক দিয়েই প্রশস্ত ছিল । তিনি সে সময়ে বড়োদিন উপলক্ষ্যে কমলা লেবু ও অন্যান্য উপহারসামগ্ৰী যথাযোগ্য পাত্রে বিতরণ করতে ব্যস্ত ছিলেন, এমন সময়ে র্তার পাড়ায় আমার অভু্যদয় হল। বাবার বাসা ছিল তার বাড়ির সামনেই, মাঝে ছিল এক রাস্তা। বলা বাহুল্য, ডেপুটির এম-এ-পাস-করা ছেলে কস্তাদায়িকের পক্ষে খুব