পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ত্রয়োবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৫৩৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাহিত্যের পথে é३१ তাই বলছি, আজ প্রবাসী-বঙ্গলাহিত্য-সন্মিলন বাঙালির অন্তরতম ঐক্যচেতনাকে সপ্রমাণ করছে। নদী যেমন স্রোতের পথে নানা বাকে বাকে আপন নানাদিকগামী তটকে এক করে নেয়, আধুনিক বাংলাভাষা ও সাহিত্য তেমনি করেই নানা দেশ-প্রদেশের বাঙালির হৃদয়ের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে তাকে এক প্রাণধারায় মিলিয়েছে। সাহিত্যে বাঙালি আপনাকে প্রকাশ করেছে ব’লেই, আপনার কাছে আপনি সে আর অগোচর নেই ব’লেই, যেখানে যাক আপনাকে আর সে ভুলতে পারে না। এই আত্মাহুভূতিতে তার গভীর আনন্দ বৎসরে বৎসরে নানা স্থানে নানা সম্মিলনীতে বারম্বার উচ্ছ্বলিত হচ্ছে । অথচ সাহিত্য ব্যাপারে সম্মিলনীর কোনো প্রকৃত অর্থ নেই। পৃথিবীতে দশে মিলে অনেক কাজ হয়ে থাকে, কিন্তু সাহিত্য তার অস্তগত নয়। সাহিত্য একান্তই একলা মাহবের স্বষ্টি । রাষ্ট্রিক বাণিজ্যিক সামাজিক বা ধর্ম-সাম্প্রদায়িক অনুষ্ঠানে দল বাধা আবশ্যক হয় । কিন্তু, সাহিত্যসাধনা যার, যোগীর মতো তপস্বীর মতো সে একা। অনেক সময়ে তার কাজ দশের মতের বিরুদ্ধে। মধুসূদন বলেছিলেন "বিরচিব মধুচক্র । সেই কবির মধুচক্র একলা মধুকরের। মধুসূদন যেদিন মৌচাক মধুতে ভরছিলেন, সেদিন বাংলায় সাহিত্যের কুঞ্জবনে মৌমাছি ছিলই বা কয়টি। তখন থেকে নানা খেয়ালের বশবর্তী একলা মামুবে মিলে বাংলাসাহিত্যকে বিচিত্র করে গড়ে তুলল। এই বহু স্রষ্টার নিভৃত-তপো-জাত সাহিত্যলোকে বাংলার চিত্ত আপন আস্তরতম আনন্দ ভবন পেয়েছে, সন্মিলনীগুলি তারই উৎসব। বাংলাসাহিত্য যদি দল-বাধা মানুষের স্বষ্টি হত তা হলে আজ তার কী দুৰ্গতিই ঘটত তা মনে করলেও বুক কেঁপে ওঠে । বাঙালি চিরদিন দলাদলি করতেই পারে, কিন্তু দল গড়ে তুলতে পারে না। পরম্পরের বিরুদ্ধে ঘোট করতে, চক্রাস্ত করতে, জাত মারতে তার স্বাভাবিক আনন্দ– আমাদের সনাতন চণ্ডীমণ্ডপের উৎপত্তি সেই ‘আনন্দাদ্ধে)ব’ । মামুষের সব-চেয়ে নিকটতম ষে-সম্বন্ধবন্ধন বিবাহব্যাপারে, গোড়াতেই সেই বন্ধনকে অহৈতুক অপমানে জর্জরিত করবার বরষাত্রিক মনোবৃত্তিই তো বাংলা দেশের সনাতন বিশেষত্ব। তার পরে কবির লড়াইয়ের প্রতিযোগিতাক্ষেত্রে পরম্পরের প্রতি ব্যক্তিগত আশ্রাব্য গালিবর্ষণকে ধারা উপভোগ করবার জন্তে একদা ভিড় করে সমবেত হত, কোনো পক্ষের প্রতি বিশেষ শক্রতাবশতই যে তাদের সেই দুয়ো দেবার উচ্ছ্বলিত উল্লাস তা তো নয়, নিন্দার মাদক রসভোগের নৈর্ব্যক্তিক প্রবৃত্তিই এর মূলে। আজ বর্তমান সাহিত্যেও বাঙালির ভাঙন-ধরানো মনের কুৎসামুখরিত নিষ্ঠুর পীড়ননৈপুণ্য সর্বদাই উষ্ঠত। সেটা আমাদের ক্র র অট্টহাস্তোবেল গ্রাম্য