পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১৮৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্র-রচনাবলী * 8טל রমেন বললে, “সমস্তটাই একসঙ্গে ।” “নিশ্চয়ই ওর চোখ দুটে ; কেমন একরকম গভীর করে চাইতে জানে। না, উঠো না সরলা। আর-একটু বোসো। ওর দেহটাও কেমন নিরেট নিটোল।” “তুমি কি ওকে নিলেম করতে বসেছ নাকি বউদি। জানই তো অমনিতেই আমার উৎসাহের কিছু কমতি নেই।” নীরজ দালালির উৎসাহে বলে উঠল, “ঠাকুরপো, দেখো সরলার হাত দুখানি, যেমন জোরালো তেমনই সুডোল, কোমল, তেমনই তার ఖి এমনটি আর দেখেছ ?” রমেন হেসে বললে, “আর কোথাও দেখেছি কি না তার উত্তরটা তোমার মুখের সামনে রূঢ় শোনাবে।” “অমন-দুটি হাতের পরে দাবি করবে না ?” “চিরদিনের দাবি নাই করলেম, ক্ষণে ক্ষণে দাবি করে থাকি। তোমাদের ঘরে যখন চ খেতে আসি তখন চায়ের চেয়ে বেশি কিছু পাই ওই হাতের গুণে । সেই রসগ্রহণে পাণিগ্রহণের যেটুকু সম্পর্ক থাকে অভাগার পক্ষে সে-ই যথেষ্ট।” সরলা মোড়া ছেড়ে উঠে পড়ল । ঘর থেকে বেরবার উপক্রম করতেই রমেন দ্বার আগেলে বললে, “একটা কথা দাও তবে পথ ছাড়ব ।” “কী, বলে ।” “আজ শুক্লাচতুর্দশী । আমি মুসাফির আসব তোমার বাগিচায়, কথা যদি থাকে তৰু কইবার দরকারই হবে না। আকাল পড়েছে, পেট ভরে দেখাই জোটে না। হঠাৎ এই ঘরে মুষ্টিভিক্ষার দেখা,— এ মঞ্জুর নয়। আজ তোমাদের গাছতলায় বেশ একটু রয়ে-সয়ে মনটা ভরিয়ে নিতে চাই ।” সরলা সহজ স্বরেই বললে, “আচ্ছা, এসে তুমি।” রমেন থাটের কাছে ফিরে এসে বললে, “তবে আসি বউদি।” “আর থাকবার দরকার কী। বউদির যে কাজটুকু ছিল, সে তো সারা হল ।” রমেন চলে গেল । 蟲 ኳ ! 8 রমেন চলে গেলে নীরজ হাতের মধ্যে মুখ লুকিয়ে বিছানায় পড়ে রইল। ভাবতে লাগল, এমন মন-মাতানো দিন তারও ছিল । কত বসস্তের রাতকে সে উতলা করেছে। সংসারের বারো-আনা মেয়ের মতো সে কি ছিল স্বামীর ঘরকন্নার আসবাব। বিছানায় শুয়ে শুয়ে কেবলই মনে পড়ে, কতদিন তার স্বামী তার অলক