পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২১১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


У X o রবীন্দ্র-রচনাবলী “এইজন্যেই বলেছিলেম আজ রাত্রে ডেকো না।” “কেন, মন খুলে আমি তো সবই দিয়ে দিয়েছি। ও কি তাও বুঝল না।” “বুঝেছে বই-কি। বুঝেছে যে, মন তোমার খোলে নি। স্বর বাজল না।” “কিছুতে বিশুদ্ধ হল না আমার মন ! এত মার খেয়েও ! কে বিশুদ্ধ করে দেবে। ওগো সন্ন্যাসী, আমাকে বাচাও না। ঠাকুরপো, কে আমার আছে, কার কাছে যাব আমি।” “আমি আছি বউদি। তোমার দায় আমি নেব। তুমি এখন ঘুমোও।” “ঘুমোব কেমন করে। এ বাড়ি থেকে আবার যদি উনি চলে যান তা হলে মরণ নইলে আমার ঘুম হবে না।” "চলে উনি যেতে পারবেন না ; সে ওঁর ইচ্ছায় নেই, শক্তিতে নেই। এই নাও ঘুমের ওষুধ, তোমাকে ঘুম পাড়িয়ে তবে আমি যাব।” “যাও ঠাকুরপো, তুমি যাও, ওরা দুজনে কোথায় গেল দেখে এসো, নইলে আমি নিজেই যাব, তাতে আমার শরীর ভাঙে ভাঙক ৷” “আচ্ছা, আচ্ছা, আমি যাচ্ছি।” 4 ο আদিত্য ওর সঙ্গে এল দেখে সরল বললে, “কেন এলে। ভালো করে নি । ফিরে যাও । আমার সঙ্গে তোমাকে এমন করে দেব না জড়াতে ।” “তুমি দেবে কি না সে তো কথা নয়, জড়িয়ে যে গেছেই । সেটা ভালো হোক বা মন্দ হোক তাতে আমাদের হাত নেই।” “সে-সব কথা পরে হবে, ফিরে যাও, রোগীকে শাস্ত করো গে।” “আমাদের এই বাগানের আর-একটা শাখা বাড়াব সেই কথাটা—” “আজ থাক। আমাকে দু-চার দিন ভাববার সময় দাও, এখন আমার ভাববার শক্তি নেই।” রমেন এসে বললে, “যাও দাদা, বউদিকে ওষুধ খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দাও গে, দেরি কোরো না। কিছুতেই কোনো কথা কইতে দিয়ে না ওঁকে। রাত হয়ে গেছে।” আদিত্য চলে গেলে পর সরল বললে, “শ্রদ্ধানন্দ পার্কে কাল তোমাদের একটা সভা আছে না ?” o