পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪৪১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গল্পগুচ্ছ 8 বসিয়া কোচার প্রান্ত হইতে চিড় খুলিয়া লইয়। ভিজাইয়া খাইবার উদ্যোগ করিল। এই লোকটিকে দেখিয়া রসিকের কিছু নূতন রকমের ঠেকিল। পায়ে জুতা নাই, ধুতির উপর একটা জামা, মাথায় পাগড়ি পরা— দেখিবামাত্র স্পষ্ট মনে হয়, ভদ্রলোকের ছেলে— কিন্তু মুটেমজুরের মতো কেন যে সে এমন করিয়া বস্ত বহিয়৷ বেড়াইতেছে ইহা সে বুঝিতে পারিল না। দুইজনের আলাপ হইতে দেরি হইল না এবং রসিক ভিজা চিড়ার যথোচিত পরিমাণে ভাগ লইল । এ ছেলেটি কলিকাতার কলেজের ছাত্র। ছাত্রেরা যে স্বদেশী কাপড়ের দোকান খুলিয়াছে তাহারই জন্য দেশি কাপড় সংগ্ৰহ করিতে সে এই গ্রামের হাটে আসিয়াছে। নাম স্ববোধ, জাতিতে ব্রাহ্মণ । তাহার কোনো সংকোচ নাই, বাধা নাই— সমস্তদিন হাটে ঘুরিয়া সন্ধ্যাবেলায় চিড়া ভিজাইয়া খাইতেছে। = سيجية দেখিয়া নিজের সম্বন্ধে রসিকের ভারি একটা লজ্জা বোধ হইল। শুধু তাই নয়, তাহার মনে হইল, যেন মুক্তি পাইলাম। এমন করিয়া খালি পায়ে মজুরের মতো যে মাথায় মোট বহিতে পারা যায় ইহা উপলব্ধি করিয়া জীবনযাত্রার ক্ষেত্র এক মুহূর্তে তাহার সম্মুখে প্রসারিত হইয়া গেল। সে ভাবিতে লাগিল, আজ তো আমার উপবাস করিবার কোনো দরকারই ছিল না— আমি তো ইচ্ছা করিলেই মোট বহিতে পারিতাম । স্ববোধ যখন মোট মাথায় লইতে গেল রসিক বাধা দিয়া বলিল, “মোট আমি বহিব।” স্থবোধ তাহাতে নারাজ হইলে রসিক কহিল, “আমি তাতির ছেলে, আমি আপনার মোট বহিব, আমাকে কলিকাতায় লইয়া ষান।” “আমি তাতি’ আগে হইলে রসিক এ কথা কখনোই মুখে উচ্চারণ করিতে পারিত না— তাহার বাধা কাটিয়া গেছে । স্থবোধ তো লাফাইয়া উঠিল— বলিল, “তুমি তাতি! আমি তো তাতি খুজিতেই বাহির হইয়াছি। আজকাল তাহাজের দর এত বাড়িয়াছে যে, কেহই আমাদের তাতের স্কুলে শিক্ষকতা করিতে যাইতে রাজি হয় না।” রসিক তাতের স্কুলের শিক্ষক হইয়া কলিকাতায় আসিল । এতদিন পরে বাসাখরচ বাদে সে সামান্ত কিছু জমাইতে পারিল, কিন্তু বাইসিকূল-চক্রের লক্ষ্য ভেদ করিতে এখনো অনেক বিলম্ব আছে। আর বধূর বরমাল্যের তো কথাই নাই। ইতিমধ্যে র্তীতের স্কুলটা গোড়ায় যেমন হঠাৎ জলিয়া উঠিয়াছিল তেমনি হঠাৎ নিবিয়া যাইবার উপক্রম হইল। কমিটির বাবুর যতক্ষণ কমিটি করিতে থাকেন অতি চমৎকার হয়, কিন্তু কাজ করিতে নামিলেই গণ্ডগোল বাধে। তাহার নানা দিগদেশ হইতে নানা