পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৫৪৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


(? & 8 রবীন্দ্র-রচনাবলী অনেক দিনের আকাঙ্ক্ষার বিষয় ছিল। বাংলাদেশের কবি আমি আজ ইরানদেশে এসেছি, প্রাণের প্রীতি ও শ্রদ্ধার অর্ঘ্য নিয়ে। দুঃখ এই, আমার এই বৃদ্ধ বয়স ও ভগ্নস্বাস্থ্য নিয়ে আমি ইচ্ছামত ঘুরে বেড়াতে পারব না, প্রাণ ভরে এখানকার জীবনযাত্রার নিকটসংস্পর্শে আসতে পারব না। তবুও এটা বলতে পারি যে, এখান থেকে আমি প্রচুর অনুপ্রেরণা ও শাশ্বত মূল্যের অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে ফিরব। পারস্তে এসে আপনাদের নিকট যে বিরাট অভ্যর্থনা পেলুম এর জন্য আমার আস্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করি। — বিচিত্র । ভাদ্র ১৩৩৯, পৃ. ১৫৬-১৬• ১৪ এপ্রিল ১৯৩২ ] তারিখে কবি-কর্তৃক পারস্তসম্রাট রেজা শী পহলবীর নিকট প্রেরিত তারের মর্মানুবাদ মহারাজ, যে উদার আতিথেয়তা আপনার নিকট পেলেম তার জন্যে ইরান থেকে বিদায় নেবার আগে আমার হৃদয়ের কৃতজ্ঞতা আপনার কাছে নিবেদন করি। আপনি আপনার নিজস্ব প্রাণশক্তি দেশের জীবনের মধ্যে সঞ্চারিত করেছেন, আপনার প্রতি আমার ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা-অৰ্ঘ্য রেখে যাই। আপনার প্রজাবর্গের প্রতি আমার অস্তরের প্রীতির নিদর্শনস্বরূপ কয়েকটি কথা বলে আজ বিদায় গ্রহণ করব । ইরানের বন্ধুবর্গের প্রতি অাজ শেষ পর্যন্ত তোমাদের কাছে বিদায় নেবার সময় এসেছে ; কৃতজ্ঞতায় ভরা আমার এই হৃদয়খানি তোমাদের দেশে রেখে গেলেম । তোমাদের সম্রাট র্তার সাম্রাজ্যে অামাকে নিমন্ত্রণ করে যে সম্মান দিয়েছেন তোমরা রাজভক্ত প্রজার মতো সেই সম্মানের মর্যাদা রেখেছ এবং তোমাদের চিরাচরিত আতিথেয়তার ইতিহাসবিশ্রত যশ অমান রেখেছ । তোমাদের এই উদার অভ্যর্থন। আমি গ্রহণ করেছি অস্তরের সঙ্গে, বিশেষত যখন এর মধ্যে রয়েছে আমার মাতৃভূমির প্রতি আন্তরিক-শ্রদ্ধা-নিবেদন । যে দুটি জাতির মহাস্থান আজ ভারতবর্ষ ও পারস্য, ইতিহাসের প্রথম যুগে তারা যখন অনাগত ভবিষ্যতের মধ্যে তাদের জয়যাত্রা শুরু করেছিল তখন তারা ছিল এক। কালচক্রে তারা পৃথক হয়ে গড়ে তুলল এশিয়ার দুটি বিরাট সভ্যতা, তার মধ্যে প্রকাশের ভঙ্গিমা বিভিন্ন হলেও অস্তরের তেজ ও প্রাণশক্তি একই রকম। যুগে যুগে তাদের মধ্যে চিন্তাসমৃদ্ধ চিত্তের