পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (পঞ্চদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১২৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


> S 8 রবীন্দ্র-রচনাবলী র্তারা গাছে গাছে চিরযুগের এই প্রশ্নটি পেয়েছিলেন, ‘কেন প্রাণঃ প্রথমঃ প্রৈতিযুক্তঃ’— প্রথম-প্রাণ তার বেগ নিয়ে কোথা থেকে এসেছে এই বিশ্বে । সেই প্রৈতি সেই বেগ থামতে চায় না, রূপের ঝরনা অহরহ ঝরতে লাগল, তার কত রেখা, কত ভঙ্গী কত ভাষা, কত বেদন । সেই প্রথম প্রাণপ্রৈতির নবনবোন্মেষশালিনী সৃষ্টির চিরপ্রবাহকে নিজের মধ্যে গভীরভাবে বিশুদ্ধভাবে অনুভব করার মহামুক্তি আর কোথায় আছে। এখানে ভোরে উঠে হোটেলের জানালার কাছে বসে কত দিন মনে করেছি শান্তিনিকেতনের প্রান্তরে আমার সেই ঘরের দ্বারে প্রাণের আনন্দরূপ আমি দেখব অামার সেই লতার শাখায় শাখায় ; প্রথম-প্রৈতির বন্ধবিহীন প্রকাশরুপ দেখব সেই নাগকেশরের ফুলে ফুলে। মুক্তির জন্তে প্রতিদিন যখন প্রাণ ব্যথিত ব্যাকুল হয়ে ওঠে, তখন সকলের চেয়ে মনে পড়ে আমার দরজার কাছের সেই গাছগুলিকে । তারা ধরণীর ধ্যানমস্ত্রের ধ্বনি। প্রতিদিন অরুণোদয়ে, প্রতি নিস্তব্ধরাত্রে তারার অালোয় তাদের ওঙ্কারের সঙ্গে আমার ধ্যানের সুর মেলাতে চাই। এখানে আমি রাত্রি প্রায় তিনটের সময়— তখন একে রাতের অন্ধকার, তাতে মেঘের আবরণ— অস্তরে অস্তরে একটা অসহ্য চঞ্চলত অনুভব করি নিজের কাছ থেকেই উদামবেগে পালিয়ে যাবার জন্তে । পালাব কোথায় । কোলাহল থেকে সংগীতে। এই আমার অন্তগূঢ় বেদনার দিনে শান্তিনিকেতনের চিঠি যখন পেলুম তখন মনে পড়ে গেল, সেই সংগীত তার সরল বিশুদ্ধ স্বরে বাজছে আমার উত্তরায়ণের গাছগুলির মধ্যে,— তাদের কাছে চুপ করে বসতে পারলেই সেই মুরের নির্মল ঝরনা আমার অন্তরাত্মাকে প্রতিদিন স্নান করিয়ে দিতে পারবে । এই স্নানের দ্বারা ধৌত হয়ে স্নিগ্ধ হয়ে তবেই আনন্দলোকে প্রবেশের অধিকার আমরা পাই। পরমসুন্দরের মুক্তরূপে প্রকাশের মধ্যেই পরিত্রাণ,— আনন্দময় সুগভীর বৈরাগ্যই হচ্ছে সেই সুন্দরের চরম দান। २७ ङीप्प्लेदिब्र > ले९७ { হোটেল ইম্পীরিয়ল } ভিয়েন।