পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (পঞ্চদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১৪০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৩০ রবীন্দ্র-রচনাবলী শাল প্রায় ত্রিশ বছর হল শাস্তিনিকেতনের শালবীথিকায় আমার সে-দিনকার এক কিশোর কবিবন্ধুকে পাশে নিয়ে অনেক দিন অনেক সায়াহ্নে পায়চারি করেছি। তাকে অস্তরের গভীর কথা বলা বড়ো সহজ ছিল। সেই আমাদের যত আলাপগুঞ্জরিত রাত্রি, আশ্রমবাসের ইতিহাসে আমার চিরন্তন স্মৃতিগুলির সঙ্গেই গ্রথিত হয়ে আছে। সে কবি আজ ইহলোকে নেই। পৃথিবীতে মানুষের প্রিয়সঙ্গের কত ধারা কত নিভৃত পথ দিয়ে চলেছে। এই স্তব্ধ তরুশ্রেণীর প্রাচীন ছায়ায় সেই ধারা তেমন করে আরো অনেক বয়ে গেছে, আরো অনেক বইবে । আমরা চলে যাব কিন্তু কালে কালে বারে বারে বন্ধুসংগমের জন্য এই ছায়াতল রয়ে গেল। যেমন অতীতের কথা ভাবছি— তেমনি ওই শালশ্রেণীর দিকে চেয়ে বহুদূর ভবিষ্যতের ছবিও মনে আসছে। বাহিরে যখন ক্ষুব্ধ দক্ষিণের মদির পবন অরণ্যে বিস্তারে অধীরতা ; যবে কিংশুকের বন উচ্ছ,স্থল রক্তরাগে স্পর্ধায় উদ্যত ; দিশিদিশি শিমুল ছড়ায় ফাগ ; কোকিলের গান অহৰ্নিশি জানে না সংযম, যবে বকুল অজস্র সর্বনাশে স্বলিত দলিত বনপথে, তখন তোমার পাশে আসি আমি হে তপস্বী শাল, যেথায় মহিমারাশি পুঞ্জিত করেছ অভ্ৰভেদী, যেথা রয়েছ বিকাশি দিগন্তে গম্ভীর শাস্তি। অস্তরের নিগুঢ় গভীরে ফুল ফুটাবার ধ্যানে নিবিষ্ট রয়েছ উর্ধ্বশিরে ; চৌদিকের চঞ্চলত পশে না সেথায় । অন্ধকারে নিঃশব্দ সৃষ্টির মন্ত্র নাড়ি বেয়ে শাখায় সঞ্চারে ; সে অমৃত মন্ত্রতেজ নিলে ধরি সূর্যলোক হতে নিভৃত মর্মের মাঝে ; স্বান করি আলোকের স্রোতে শুনি নিলে নীল আকাশের শান্তিবাণী ; তার পরে আত্মসমাহিত তুমি, স্তন্ধ তুমি,– বৎসরে বৎসরে বিশ্বের প্রকাশষজ্ঞে বারম্বার করিতেছ দান নিপুণ সুন্দর তব কমণ্ডলু হতে অফুরান