পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩১৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গল্পগুচ্ছ \ඵ ගං H হইয়া থাকিত। বন্ধুর মৃত্যুর পর এ আশঙ্কা কিঞ্চিং কমিয়াছিল এবং পুত্রের বিদায়ের পর অনেকটা নিশ্চিন্ত বোধ হইল । কেবল একটি বেদনা মনে বাজিয়াছিল। যজ্ঞনাথের চারি বৎসর -বয়স্ক নাতি গোকুলচন্দ্রকে বৃন্দাবন সঙ্গে লইয়া গিয়াছিল। গোকুলের খাওয়া-পরার খরচ অপেক্ষাকৃত কম, স্থতারং তাহার প্রতি যজ্ঞনাথের স্নেহ অনেকটা নিষ্কণ্টক ছিল । তথাপি বৃন্দাবন যখন তাহাকে নিতান্তই লইয়া গেল তখন অকৃত্রিম শোকের মধ্যেও যজ্ঞনাথের মনে মুহূর্তের জন্য একটা জমাখরচের হিসাব উদয় হইয়াছিল ; উভয়ে চলিয়া গেলে মাসে কতটা খরচ কমে এবং বৎসরে কতটা দাড়ায়, এবং যে টাকাটা সাশ্রয় হয় তাহা কত টাকার সুদ । কিন্তু তবু শূন্ত গৃহে গোকুলচন্দ্রের উপদ্রব না থাকাতে গৃহে বাস করা কঠিন হইয়া উঠিল। আজকাল যজ্ঞনাথের এমনি মুশকিল হইয়াছে, পূজার সময়ে কেহ ব্যাঘাত করে না, খাওয়ার সময় কেহ কাড়িয়া খায় না, হিসাব লিখিবার সময় দোয়াত লইয়া পালায় এমন উপযুক্ত লোক কেহ নাই। নিরুপদ্রবে স্নানাহার সম্পন্ন করিয়া তাহার চিত্ত ব্যাকুল হইয়া উঠিতে লাগিল। মনে হইল যেন মৃত্যুর পরেই লোকে এইরূপ উৎপাতহীন শূন্তত লাভ করে ; বিশেষত বিছানার কাথায় তাহার নাতির কৃত ছিদ্র এবং বসিবার মাদুরে উক্ত শিল্পীঅঙ্কিত মসীচিহ্ন দেখিয়া তাহার হৃদয় আরও অশাস্ত হইয়া উঠিত। সেই অমিতাচারী বালকটি দুই বৎসরের মধ্যেই পরিবার ধুতি সম্পূর্ণ অব্যবহার্য করিয়া তুলিয়াছিল বলিয়া পিতামহের নিকট বিস্তর তিরস্কার সহ করিয়াছিল ; এক্ষণে তাহার শয়নগৃহে সেই শতগ্রস্থিবিশিষ্ট মলিন পরিত্যক্ত চৗরখণ্ড দেখিয়া তাহার চক্ষু ছলছল করিয়া আসিল ; সেটি পলিতা-প্রস্তুত-করণ কিম্বা অন্য কোনো গার্হস্থ্য ব্যবহারে না লাগাইয়া যত্বপূর্বক সিন্দুকে তুলিয়া রাখিলেন এবং মনে মনে প্রতিজ্ঞা করিলেন যদি গোকুল ফিরিয়া আসে এবং এমন-কি বৎসরে একখানি করিয়া ধুতিও নষ্ট করে তথাপি তাহাকে তিরস্কার করিবেন না । কিন্তু গোকুল ফিরিল না এবং যজ্ঞনাথের বয়স যেন পূর্বাপেক্ষ অনেক শীঘ্র শীঘ্র বাড়িয়া উঠিল এবং শূন্ত গৃহ প্রতিদিন শূন্ততর হইতে লাগিল । যজ্ঞনাথ আর ঘরে স্থির থাকিতে পারেন না। এমন-কি, মধ্যাহ্নে যখন সকল সন্ত্রাস্ত লোকই আহারান্তে নিদ্রাস্থখ লাভ করে যজ্ঞনাথ হুক-হস্তে পাড়ায় পাড়ায় ভ্রমণ করিয়া বেড়ান। তাহার এই নীরব মধ্যাহ্নভ্রমণের সময় পথের ছেলেরা খেলা পরিত্যাগপূর্বক নিরাপদ স্থানে পলায়ন করিয়া তাহার মিতব্যয়িত সম্বন্ধে স্থানীয় কবি রচিত বিবিধ