পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪৯৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8ન્મ রবীন্দ্র-রচনাবলী তিনি Revelationএর চতুর্থ অধ্যায় থেকে এই শ্লোকটি তার উপদেশের বিষয় করে নিয়েছেন— After this I looked, and, behold, a door was opened in heaven ; and the first voice I heard was as it were a trumpet talking with me ; which said, come up hither and I will show thee things that shall be hereafter, র্তার উপদেশের ভিতরকার কথা হচ্ছে এই : বরাবর এই কথা আছে ‘তুমি এসো আরও কিছু দেখাবার আছে ; এই বাণী বরাবর মানুষ শুনে আসছে। আমাদের কোনো জায়গায় ঈশ্বর বদ্ধ থাকতে দেবেন না। জ্ঞানে ভাবে কর্মে সমাজে সকল দিকে স্বর্গ থেকে, উপর থেকে, ডাক আসছে ; তোমরা চলে এসো, তোমরা বসে থাকতে পারবে না । ইহলোকের মধ্যেই সেই hereafter, সেই পরে যা হবে, তার ডাক মানুষ শুনেছে বলেই তার সমাজে উন্নতি হচ্ছে, তার জ্ঞান প্রসার লাভ করছে। পশু এ ডাক শোনে না , তাকে কেউ বলে না যে "তুমি যা দেখছ যা পাচ্ছ তাই শুধু নয়— আরও অনেক বাকি আছে । মানুষেরই এই একটি বিশেষ গৌরবের জিনিস যে মানুষকে ঈশ্বর স্থির নিশ্চল হয়ে বসে থাকতে দিলেন না। যেখানে তার বদ্ধতা, তার সংকীর্ণতা, সেখানে ক্রমাগতই আহবান আসছে : আরও কিছু আছে, আরও আছে। যা হয়েছে তা হয়েছে এ বলে যদি দাড়াই, যদি সেই ‘আরও অাছের ডাককে অমান্য করি, তা হলে মানুষের ধর্মের পতন। যদি তাকে জ্ঞানে অমান্য করি তা হলে মানুষের মুঢ়তায় পতন। যদি সমাজে অমান্য করি তা হলে জড়তায় পতন। কালে কালে মহাপুরুষেরা কী দেখান। র্তার দেখান যে, তোমরা যাকে ধর্ম বলে ধরে রয়েছ ধর্ম তার মধ্যে পর্যাপ্ত নন। মানুষকে মহাপুরুষের মুক্তির পথ দেখিয়ে দেন ; তারা বলেন, চলতে হবে। কিন্তু, মানুষ তাদেরই আশ্রয় করে খুটি ধরে দাড়িয়ে যায়, আর চলতে চায় না। মহাপুরুষেরা যে পর্যন্ত গিয়েছেন তারও বেশি তাদের অনুপন্থীরা যাবেন, এই তে। তাদের ইচ্ছা। কিন্তু, তারা র্তাদের বাক্য গলায় বেঁধে আত্মহত্যা সাধন করে। মহাপুরুষদের পথ হচ্ছে পথ, কেবলমাত্র পথ। তারা সেই পথে চলেছিলেন এইটেই সত্য । সুতরাং পথে বসলে গম্যস্থানকে পাব না, পথে চললেই পাব। উপরের থেকে সেই চলবার ডাকটিই আসছে। সেই বাণীই বলছে : তুমি বসে থেকে কিছু পাবে না ; চলে, আরও চলো ; আরও আছে, আরও আছে । মামুষের ধর্ম চলছে তা আমরা দেখতে পাচ্ছি। ধর্ম আমাদের কোনো সীমাবদ্ধ জিনিসের পরিচয় দিচ্ছে না, ধর্ম অসীমের পরিচয় দিচ্ছে । পাখি যেমন আকাশে ওড়ে এবং উড়তে উড়তে আকাশের শেষ পায় না তেমনি আমরা অনন্তের