পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৬০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্ররচনাবलौ কাদিয়া তখন কহিল রমণী লাজে ভয়ে পরিতাপে, ‘লোভে পড়ে আমি করিয়াছি পাপ, মরিব সাধুর শাপে । কহিল কবীর, ভয় নাই মাত, লইব না অপরাধ— । এনেছ আমার মাথার ভূষণ অপমান অপবাদ । ঘুচাইল তার মনের বিকার, করিল চেতনা দান— সঁপি দিল তার মধুর কণ্ঠে হরিনামগুণগান । , রটি গেল দেশে— কপট কবীর, সাধুতা তাহার মিছে। শুনিয়া কবীর কহে নতশির, আমি সকলের নীচে । , যদি কূল পাই তরণী-গরব রাখিতে ন চাহি কিছু— । তুমি যদি থাক আমার উপরে আমি রব সব-নিচু। রাজার চিত্তে কৌতুক হল শুনিতে সাধুর গাথা। দূত আসি তারে ডাকিল যখন সাধু নাড়িলেন মাথা। কহিলেন, ‘থাকি সব হতে দুরে আপন হীনতা-মাঝে ; আমার মতন অভাজন জন রাজার সভায় সাজে ’ । দূত কহে, তুমি না গেলে ঘটিবে আমাদের পরমাদ, যশ শুনে তব হয়েছে রাজার সাধু দেখিবার সাধ ' ' রাজা বসে ছিল সভার মাঝারে, পারিষদ সারি সারি— কবীর আসিয়া পশিল সেথায় পশ্চাতে লয়ে নারী। কেহ হাসে কেহ করে ভুরুকুটি, কেহ রহে নতশিরে, । রাজা ভাবে— এটা কেমন নিলাজ রমণী লইয়া ফিরে! ইঙ্গিতে তার সাধুরে সভার বাহির করিল দ্বারী, । বিনয়ে কবীর চলিল কুটিরে সঙ্গে লইয়া নারী । পথমাঝে ছিল ব্রাহ্মণদল, কৌতুকভরে হাসে, । শুনায়ে শুনায়ে বিদ্রপবাণী কহিল কঠিন ভাষে। ' তখন রমণী কাদিয়া পড়িল সাধুর চরণমূলে— । কহিল, পাপের পক্ষ হইতে কেন নিলে মোরে তুলে ! কেন অধমারে রাখিয়া দুয়ারে সহিতেছ অপমান ? কহিল কবীর, জননী, তুমি যে আমার প্রভুর দান ? ২৮ আশ্বিন ১৩০৬: -