V8 রাজনারায়ণ বসুর আত্ম-চরিত। গ্রন্থের প্রথম অধ্যায় ( উপনিষদ) অতি শীঘ্ৰ প্ৰস্তুত হয়। কিন্তু দ্বিতীয় অধ্যায় প্ৰস্তুত করিতে অনেক সময় লাগে। উক্ত অধ্যায়ে মনু হইতে যে সকল শ্লোক উদ্ধৃত আছে তাহা আমি মনুসংহিতা হইতে উদ্ধার করিয়া দিই। উক্ত দ্বিতীয় অধ্যায়ে প্রথমে মনু হইতে “নাত্বাদূষণ” এই বাক্য যে শ্লোকের প্রথমে আছে তাহা উদ্ধত ছিল। উহার অর্থ এই মাংসাচারে কোন দোষ নাই। ঐ শ্লোকটি পরে তুলিয়া দেওয়া হয়। সমাজে হারমোনিয়ম ব্যবহার করিবার পূর্বে একডিয়ন (accordion) দিন কতক ব্যবহার করা হইয়াছিল। কঠোপনিষদের যে শ্লোকের প্ৰথমে আছে “ন সদৃশ্যে তিষ্ঠতি রূপমন্ত” সেই শ্লোক একর্ডিয়নে গাওয়া হইত। এক একদিন দেবেন্দ্র বাবুর বাটীতে সন্ধ্যার পর এইরূপ গাওনাতে বড় আনন্দ হইত। কিরূপ আনন্দ হইত। তাহা এই নিম্নে লিখিত গল্প দ্বারা প্ৰদৰ্শিত হইবে। চন্দ্রনাথ রায় নামে দেবেন্দ্র বাবুর একটি পারিষদ ছিলেন। ইহঁকে দেবেন্দ্র বাবু পরে একটি নায়েবি কৰ্ম্ম দেন। ইহার বাটী বংশবাটী গ্রামে ছিল। ইনি একরাত্রি বাসায় ফিরিয়া না। যাইতে পারাতে দেবেন্দ্র বাবুর বৈঠকখানায় শয়ন করিয়াছিলেন। পার্থের ঘরে দেবেন্দ্র বাবু শুইয়াছিলেন। ঐ রাত্রিতে সন্ধ্যার পর বড় ব্ৰহ্মানন্দ হয়। দুই প্রহর রাত্রি বেলায় দেবেন্দ্র বাবু “দুপ দুপ” এইরূপ শব্দ শুনিতে পাইলেন। র্তাহার ঘুম ভাঙ্গিয়া গেল। বাহিরে আসিয়া দেখেন যে চন্দ্রনাথ রায় নৃত্য করিতেছেন। একি, জিজ্ঞাসা করাতে, তিনি বলিলেন “আমার নাচ পাইয়াছে কি করি ?” লোকের যেমন ক্ষুধা পায়, তৃষ্ণ পায়, তেমনি নাচ পায় ইহা অদ্ভুত কথা। এই সময়ে পরস্পর পরস্পরকে আমরা শাস্ত্রোক্ত নামে ডাকিতাম। কাহারে নাম শৌনক ছিল, কাহারো নাম জরৎকারু, কাহারো নাম অষ্টাবক্র ছিল। অক্ষয় বাবু শীর্ণকলেবর, তাহার নাম আমরা জরৎকারু রাখিয়াছিলাম।
পাতা:রাজনারায়ণ বসুর আত্মচরিত.pdf/৮৮
অবয়ব