পাতা:রাজমোহনের স্ত্রী.djvu/৬৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রাজমোহনের স্ত্রী ११ —আমাকে ঘৃণা ক’রো না, আমাকে ঘৃণা ক’রে না । আবেগাতিশয্যে মাতঙ্গিনীর কুসুমমুকুমার দেহ কম্পিত হইতে লাগিল—আমার এই চরম দুৰ্ব্বলতার জন্য ঘৃণায় মুখ ফিরিও না । মাধব, হয়তো এই আমাদের শেষ দেখা, হয়তো কেন, নিশ্চয়ই, তাই এই শেষ মুহূৰ্ত্তে বলছি, তোমাকে আমি প্রাণ দিয়ে ভালবেসেছিলাম, তোমাকে আমি এখনও প্রাণ দিয়ে ভালবাসি । তাই তোমার কাছ থেকে চিরদিনের জন্তে বিদায় নিতে এত কষ্ট হচ্ছে । মাধব কি মাতঙ্গিনীর এই দুৰ্ব্বলতা দেখিয়া তাহাকে তিরস্কার করিল ? না, সে দুই হাতে মুখ ঢাকিয়া বসিয়া রহিল, চোখের জলে হাতের তালু ভিজিয়া গেল। কিছুক্ষণের জন্য দুই জনেই নীরব, উভয়ের বুকের স্পন্দন দ্রুত হইল। মাতঙ্গিনী যেরূপ আচম্বিতে আত্মবিস্মৃত হইয়াছিল, নিজেকে সামলাইয়া লইতেও তাহার বিলম্ব হইল না, সেই বুকভাঙা নীরবত সেই প্রথমে ভঙ্গ করিল ৷ সেই দূরে সরিয়া থাকা, সেই সঙ্কোচ, মনের সেই বিষাদ, ভাঙা বুকের সেই হাহাকার যাহা প্রথম হইতেই মাতঙ্গিনীকে পাইয়া বসিয়াছিল, কোথায় যেন মিলাইয়া গিয়াছে, গভীর উত্তপ্ত ভালবাসার হঠাৎ প্রকাশের উত্তেজনা ও অধীরতাও প্রশমিত হইয়াছে, মাতঙ্গিনী শাস্ত স্তব্ধভাবে দাড়াইয়া রহিল, শুধু তাহার স্বভাবত-মান মুখখানি এক অব্যক্ত ভাবাবেগে উজ্জল দেখাইতে লাগিল । তাহার কোমল অঙ্গ ব্যাপিয়া একটা মধুর অথচ শাস্ত গাম্ভীৰ্য্য তাহাকে ঘিরিয়া রাখিয়াছিল, কিন্তু এ গাম্ভীৰ্য্য নিবিড়তম আনন্দানুভূতি হইতে নয়, কারণ হৃদয়াবেগের প্রচণ্ড বন্যা তাহাকে এমন এক স্থানে ভাসাইয়া লইয়া গিয়াছিল, যেখানে বৰ্ত্তমান অকথিত মুখের উন্মাদনায় ন্যায়-অন্যায়বোধমাত্র থাকে না, নিকটতম বৰ্ত্তমান ছাড়া আর কিছুই প্রত্যক্ষ হয় না। মাতঙ্গিনী কেবলমাত্র মাধবের সান্নিধ্যটুকুই উপভোগ করিতেছিল, মাধবের