বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রাজা রামমোহন রায়ের সংস্কৃত ও বাঙ্গালা গ্রন্থাবলী.pdf/২১৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

সহমরণ বিষয় । SSA এ বচনও পাঠ করিবেন,-“ষঃ সৰ্ব্বপাপযুক্তোপি পুণ্যতীৰ্থেষু মানবঃ। নিয়মেন ত্যজেৎ প্রাণানমুচ্যতে সর্বপাতকৈঃ”। সকল পাপ যুক্ত হইয়াও যে মনুষ্য নিয়ম পূর্বক পুণ্য তীর্থে প্ৰাণত্যাগ করে সে সৰ্ব্ব পাপ হইতে মুক্ত হইবেক। ঐ বচন পাঠানন্তর বিপ্ৰনাম এ প্ৰবৃত্তিও দিতে সমর্থ হইবেন যে কামনা ত্যাগ করিয়া তীৰ্থ মরণে চিত্ত শুদ্ধি হইবেক, কিন্তু বিপ্ৰনামার ইহাও অনুভব হইল না যে স্বৰ্গাদি কামনা না থাকিলে এ প্রকার আত্ম হনন রূপ কৰ্ম্মে প্ৰবৃত্তিই হইতে পারে না । এবং এ প্রকার দুঃসাহস কৰ্ম্মে যে প্ৰবৃত্তি সে তামসী প্ৰবৃত্তি হয়, যাহা গীতায় ও উপনিষদে বারম্বার নিষিদ্ধ করিয়াছেন, এই রূপ বিপ্ৰনাম ভবিষ্য পুরাণোক্ত নরবলি প্রদানের প্রবৃত্তিও দিবেন, যে যদ্যপিও এ ক্রুর কৰ্ম্ম হয় কিন্তু কামনা ত্যাগ পূর্বক করিলে চিত্ত শুদ্ধি হইবেক, এবং কালিকা পুরাণোক্ত এ মন্ত্রও উচ্চৈঃসরে পাঠ করিবেন। “নর ত্বং বলিরূপেণ মম ভাগ্যাদুপস্থিতঃ । প্ৰণমামি ততঃ সৰ্বরূপিণং” বলিরূপিণং এবং এরূপ বিচারে বিপ্রনামা প্ৰবৰ্ত্ত হইবেন যে পূর্ব পূর্ব যুগে কি পণ্ডিত ছিলেন না এবং ইহার পূর্ব এই কলিকালেও কি পণ্ডিত ছিলেন না, দেখ নরবলি সত্যাদি যুগে হইয়া আসিয়াছে, জড়ভরত প্ৰভৃতির উপাখ্যান ইহার প্রমাণ হয় এবং কলিতেও তন্ত্রানুসারে নরবলির প্রথা ছিল এবং একালেও দেশ বিদেশে হইতেছে, অতএব শাস্ত্ৰ প্ৰাপ্ত এবং পরম্পরা ব্যবহার সিদ্ধ নরবলি অবশ্য কৰ্ত্তব্য, যদি কেহ কহে যে কামনা পূর্বক কৰ্ম্ম গীতাদি শাস্ত্ৰ মতে নিন্দিত হয়, তবে বিপ্ৰনাম কহিবেন যে কামনা ত্যাগ পূর্বক নরবলি দান কেন না কর চিত্ত শুদ্ধি হইয়া মুক্তি হইবেক । ধন্য ধন্য বিপ্ৰনাম। ধন্য অধ্যাপক। অষ্টম লিখেন যে “গীতায় যদি ভগবান কাম্য কৰ্ম্মের নিষেধ করিয়াছেন তবে যুধিষ্ঠিরাদি যে কাম্য কৰ্ম্ম করিয়াছেন তাহার অনুকুল কি রূপে