পাতা:রাণী না খুনি? (শেষ অংশ) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/৩৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

রাণী না খুনী?

৩৯


 ত্রৈলোক্য। তোমার মনিবের এত অবিশ্বাস করিবার কারণ?

 রামজীলাল। কয়েকবার জুয়াচোরের হস্তে পড়িয়া তিনি ঠকিয়াছেন, তাহাতেই আমাকে এইরূপ আদেশ প্রদান করিয়াছেন। আপনি ত সবিশেষ জানেন যে, কলিকাতা সহর জুয়াচোরগণের দ্বারা পরিপূর্ণ।

 “আমি এতক্ষণ পর্য্যন্ত স্থির ভাবে সেই স্থানে বসিয়াছিলাম, রামজীলালের এই সকল কথা শুনিয়া আমি আর স্থির থাকিতে পারিলাম না। রাগের ভাব প্রকাশ করিয়া রামজীলালকে কহিলাম, ‘তুমি জান না, কাহার সহিত কিরূপ ভাবে তুমি কথা কহিতেছ। তুমি জান, রাণীজি একটু রাগ করিলে তোমার মস্তক সহ এই বাটী হইতে প্রস্থান করা কঠিন হইবে?’

 “আমার এই কথা শুনিয়া রামজীলাল যেন একটু ভীত হইল; কিন্ত মনের ভাব গোপন করিয়া মুখে একটু সাহস দেখাইয়া কহিল, ‘কেন, আমি কি অন্যায় কথা বলিয়াছি যে, আমার এই বাটী হইতে মস্তক সহ বাহির হওয়া কঠিন হইয়া উঠিবে? আমি কি চোর? ইহা কি ইংরাজের রাজত্ব নহে? অরাজকের মুল্লুক যে, যাহার যাহা ইচ্ছা হইবে, অনায়াসেই তিনি তাহা করিবেন? দশ হাজার টাকার জহরত বিক্রয় না হইলে আমার মনিব একবারে গরিব হইয়া যাইবেন না! আমি জহরত বিক্রয় করিব না চলিলাম।’ এই বলিয়া রামজীলাল উঠিয়া দাঁড়াইল।

 রামজীলালের কথা শুনিয়া এবং তাহার অবস্থা দর্শন করিয়া আমি নিতান্ত রাগের ভাব দেখাইয়া বলিলাম, ‘কি! ছোট মুখে বড় কথা! রাণীজিকে এইরূপ ভাবে অবমাননা! এ অবমাননা স্বচক্ষে দেখিয়া কোনরূপেই সহ্য করিতে পারি না।’ এই বলিয়া