পাতা:রাণী না খুনি? (শেষ অংশ) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/৪২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

৪২

দারোগার দপ্তর, ৮১ম সংখ্যা।


সম্ভাবনা। মনে মনে এইরূপ নানা বিষয়ের কল্পনা করিয়া পরিশেষে একটা উপায় বাহির করিলাম। আমি ও ত্রৈলোক্য উভয়ে মিলিয়া রামজীলালের মৃতদেহ উপর হইতে নীচে নামাইলাম, এবং নীচের একখানি গৃহের মেঝের উপর যে সকল পাথর বসান ছিল, অনেক কষ্টে তাহার তিন চারিখানি উঠাইয়া ফেলিলাম। পরে সেই স্থান হইতে মৃত্তিকা উঠাইয়া ক্রমে একটী প্রশস্ত গহ্বর খনন করিলাম। তখন রামজীলালের মৃতদেহ সেই গর্ত্তের ভিতর উত্তমরূপে পুতিয়া ফেলিলাম। তাহার উপর যতদূর মৃত্তিকা ধরিতে পারে, তাহা উত্তমরূপে দুরমুস করিয়া বসাইয়া দিয়া, যে প্রস্তর চারিখানি উঠাইয়া ফেলিয়াছিলাম, তাহাও উত্তমরূপে তাহার উপর বসাইয়া দিলাম। এই সকল কার্য্য সম্পন্ন করিতে আমাদিগের অতিশয় পরিশ্রম হইল সত্য; কিন্ত এই কার্য্য সম্পন্ন করিবার উপযোগী দ্রব্যাদির নিমিত্ত আমাদিগের কোনরূপ কষ্ট পাইতে হইল না। চুন, সুরকি, সাবল, কোদালী, দুরমু্স প্রভৃতি আমাদিগের যে কোন দ্রব্যের প্রয়োজন হইল, তাহার সমস্তই আমরা সেই বাড়ীর একখানি গৃহের ভিতর প্রাপ্ত হইলাম। সেই বাড়ী প্রস্তত করিবার সময় যে সকল যন্ত্রাদি ব্যবহৃত হইয়াছিল, এবং চুন, সুরকি, বালী প্রভৃতি যে সকল দ্রব্য উদ্বৃত্ত হইয়াছিল, তাহার সমস্তই সেই গৃহের ভিতর রক্ষিত ছিল। কলেও সমস্ত দিবস জল ছিল। সুতরাং কোন দ্রব্যই আমাদিগের অপর কোন স্থান হইতে সংগ্রহ করিতে হইল না। কিন্তু সেই কার্য্য সমাধা করিতে করিতে আমাদিগের সমস্ত দিবস অতিবাহিত হইয়া গেল। মৃতদেহ প্রোথিত হইবার পর, বে সকল মৃত্তিকা প্রভৃতি উদ্বৃত্ত হইয়াছিল, তাহা সেই গৃহ