পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/১৭৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৩১
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ।

কালের মধ্যে তাঁহার ধৰ্ম্মভীরুতার বিশেষ সুখ্যাতি প্রচার হয়। এরূপ শুনিয়াছি বৰ্দ্ধমানের রাজসংসারের লোক অনেকবার তাঁহাকে উৎকোচাদি দ্বারা বশীভূত করিবার প্রয়াস পাইয়াছিলেন, কিছুতেই তাঁহাকে স্বকৰ্ত্তব্যসাধনে বিমুখ করিতে পারেন নাই। রসিককৃষ্ণ ঘূণাপূৰ্ব্বক সেই সকল প্রস্তাব অগ্রাহ্য করিতেন; এবং ন্যায়বিচার হইতে রেখামাত্র বিচলিত হইতেন না।

 বৰ্দ্ধমানে বাসকালের আর একটা স্মরণীয় ঘটনা এই যে, সেই কালের মধ্যে কিছুদিন লাহিড়ী মহাশয় বৰ্দ্ধমান স্কুলের শিক্ষকরূপে সেখানে বাস করিয়াছিলেন। তখন প্রায় প্রতিদিন দুই বন্ধুতে একত্র বাস করিতেন। লাহিড়ী মহাশয় স্বীয় বন্ধুর পরামর্শ না লইয়া কোনও কাজ করিতেন না। তখন হইতেই রসিককৃষ্ণ তাঁহার guide, philosopher and friend to of অধিকার করিয়াছিলেন। রসিককৃষ্ণের ছবি সেই যে তাহার মনে মুদ্রিত হইয়া গেল, সারা জীবনে আর তাহা একদিনের জন্যও হৃদয় হইতে অন্তর্হিত হয় নাই।

 অনুমান ১৮৫৮ সালে রসিককৃষ্ণ পীড়িত হইয়া কলিকাতায় আসিলেন। তখন তাঁহার প্ৰিয়বন্ধু রামগোপাল ঘোষ তাঁহাকে কামাৱাহাটীস্থ স্বীয় বাগানবাটীতে রাখিয়া তাঁহার চিকিৎসা ও সেবা শুশ্রুষাতে প্রবৃত্ত হইলেন। দুঃখের বিষয় সে রোগ হইতে রসিককৃষ্ণ আর আরোগ্য লাভ করিতে পারিলেন না। অকালে ভবলীলা সম্বরণ করিলেন। মৃত্যুকালে বন্ধুদ্বয় রামগোপাল ঘোষ ও প্যারীচাঁদ মিত্রকে স্বীয় বিষয় বিভবের একজিউটার ও পরিবারগণের রক্ষক ও অভিভাবক নিযুক্ত করিয়া গেলেন। তাঁহার পরিবারস্থ ব্যক্তিগণের মুখে শুনিয়াছি, তাঁহারা সমুচিতরূপেই চিরদিন ঐ ভারবহন করিয়া আসিয়াছেন; এবং সকল প্রকার আপদ বিপদে চিরদিন তাঁহাদের সহায়তা করিয়াছেন।

শিবচন্দ্র দেব।

 এই সাধুপুরুষ কলিকাতার চারি ক্রোশ উত্তর-পশ্চিমে গঙ্গাতীরস্থিত কোন্নগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করিয়া বহুকাল সেই গ্রামকে অলঙ্কৃত করিয়াছিলেন। রেলওয়ে ষ্টেশন, পোষ্ট আফিস, ইংরাজী স্কুল, বাঙ্গালা স্কুল, ডিস্‌পেন্সরী, ব্রাহ্মসমাজ প্রভৃতি কোন্নগরের উন্নতির যে কিছু চিহ্ন অদ্যাপি বিদ্যমান রহিয়াছে, তাহার সকলি ইঁহার চেষ্টার ফল। ইঁহার কথা